kalerkantho


রেলওয়ে ও থানা পুলিশের ঠেলাঠেলি

আখাউড়া জংশনে পড়ে রইল বৃদ্ধের লাশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বয়স সত্তরের কাছাকাছি। নিশ্চয় কারো না কারো স্বজন।

কিন্তু এলাকার কেউ তাঁকে চিনছেন না। কাগুজে নাম অজ্ঞাত। মৃত হওয়ায় বেওয়ারিশ। তাই কি না মৃত্যুর পর তাঁর এত দুর্গতি! মানুষ হয়েও কেউ তাঁর জন্য এগিয়ে আসছে না। উপরন্তু ‘দায়’ এড়াতে পুলিশের দুটি পক্ষের মধ্যে টানা-হেঁচড়ায় পরিচয়হীন লাশটি পড়ে রইল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে। গতকাল রবিবার সকাল ১১টার দিকে ওই ব্যক্তি রেলওয়ে জংশনে মারা গেলেও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর লাশটি পড়েছিল খোলা জায়গায়। লাশ উদ্ধারে থানা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশের মধ্যে রশি টানাটারি কারণে এ হাল হয়। রেলওয়ে স্টেশনে যাতায়াতকারী শত শত মানুষ দিনভর মৃতদেহটির দুর্গতি দেখে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১১টার দিকে রেলওয়ে জংশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে ৭০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি মারা যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই রেলওয়ের পুলিশ সদস্যদের উদ্যোগে লাশটি সরিয়ে অনতিদূরে স্টেশনের বাইরের অংশে প্রবেশ মুখে রাখা হয়। এরপর থেকে লাশটি সেখানেই পড়ে আছে। বিকেলে থানা পুলিশ গিয়ে লাশ তাদের এলাকার মধ্যের নয় বলে ফিরে আসে। এর আগে থেকেই রেলওয়ে পুলিশ লাশটি তাদের আওতাধীন নয় বলে লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

আখাউড়া নাগরিক কমিটির সহসভাপতি মো. মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘জনবহুল এলাকায় এভাবে লাশ পড়ে থাকা ঠিক নয়। যে পুলিশের এলাকাতেই ঘটনাস্থল পড়ুক না কেন দ্রুত লাশটি এখান থেকে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। ’ 

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি মো. আবদুস সাত্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রেললাইন থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত জায়গা আমাদের আওতাধীন। কিন্তু ওই ব্যক্তি এর চেয়ে বেশি দূরে মারা যাওয়ায় থানা পুলিশকে লাশ উদ্ধারের জন্য বলেছি। ’

আখাউড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ইসমত আরা এ্যানি বলেন, ‘লাশ আনতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। খবর পেয়ে এসআই মিজানুর রহমানকে সেখানে পাঠানো হয়। তিনি আমাকে বলেছেন, লাশটি স্টেশন প্ল্যাটফর্মে মারা যাওয়ার পর রেলওয়ে পুলিশ সরিয়ে রাখে, যে কারণে এ বিষয়ে আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। ’


মন্তব্য