kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাবার সন্ধানে মানববন্ধনে দুই মাসের রাইয়ান

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



৯ দিন আগে চরমপন্থীরা তুলে নিয়ে গেছে দুই মাসের শিশু রাইয়ান মিজির বাবা বাবলু মিজিকে (৩৩)। এর পর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

বাবলু জীবিত, না মৃত অবস্থায় রয়েছেন তা-ও কেউ বলতে পারছে না। তাঁর সন্ধান পেতে গতকাল রবিবার সকালে রাজবাড়ীর কুটি পাঁচুরিয়া গ্রামের বাজারসংলগ্ন সড়কে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। ওই কর্মসূচিতে মা হালিমা বেগমের কোলে চড়ে অংশ নেয় শিশু রাইয়ান মিজি। সে সময় তার কান্না দেখে অনেকেরই চোখ ভিজে যায়।

ওই কর্মসূচিতে রাইয়ান মিজির ছয় বছর বয়সী ভাই বাইজিত মিজি রাতুল, চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া বোন বাবলী আক্তার লামিয়া, দাদি জোহরা বেগম, দাদা সানাউল্লাহ মিজি, চাচা মিঠু মিজিও আসেন। তাঁরা সবাই বাবলুকে ফেরত চান।

সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে রাজবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল বাশার মিয়া, পাঁচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আলমগীর, নিখোঁজ বাবুলের মামা আবদুল মান্নান হাওলাদার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন। এতে এলাকার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ, শিশু, কিশোর ও স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

বাবুলের স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন, তিনি এখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন যাপন করছেন। তিনটি সন্তানই শিশু। দুধের শিশু রাইয়ান মিজি তার বাবাকে দেখলে কান্না থামিয়ে দিত, হাঁসত। এখনো তার ছোট্ট চোখ দুটি বাবাকে খোঁজে। এখন কান্না শুরু করলে তার সে কান্না থামানোই হয় কষ্টকর। তিনি আরো বলেন, ঘটনার পর ৯ দিন পার হলেও তাঁরা বাবুলের কোনো খোঁজ পাননি। তিনি জীবিত, না মৃত, নাকি কোথাও আটকে রাখা হয়েছে তাঁর কোনো খবরই তাঁরা জানেন না। তাঁর দাবি, যেভাবেই হোক বাবুলের সন্ধান তাঁরা পেতে চান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁর স্বামীর খোঁজটুকু অন্তত তাঁকে দেবেন—এটাই কামনা।

বাবুলের ছোট ভাই মিঠু মিজি বলেন, তিনি ইতালি থাকেন। ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। তাঁর দাবি, যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তাদের প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করা হলেই কেবল বাবুলের সন্ধান পাওয়া সম্ভব।

মামলার বাদী ও বাবুলের বাবা সানাউল্লাহ মিজি বলেন, ছোট্ট শিশু রাইয়ানের মুখের দিকে তাকালে তিনি চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না।

রাজবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল বাশার মিয়া বলেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ী থানায় ১৭ জনকে চিহ্নিত করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরপরই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের গত শুক্রবার চার দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাবুল মিজির সন্ধান তাঁরা পাবেন।


মন্তব্য