kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নারী নির্যাতনের ধরন ‘আধুনিক’ হয়েছে!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেছেন, পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে জনসচেতনতার মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনবিরোধী মনোভাব সৃষ্টি করতে পারলে এটি কমবে।

আর এই জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে মত দিয়েছেন উপস্থিত মানবাধিকারকর্মীরা।

গতকাল রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজেনে ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এই মত দেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম এনডিসির সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জ্যোতির্ময় দত্ত ও সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্যারন হাউজার। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী। কর্মশালায় অংশ নেন ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলররা। কর্মশালায় স্বগত বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রকল্পের পরিচালক ড. আবুল হোসেন।

প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী বলেন, দেশে নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতনের পরিমাণ আগের তুলনায় কমেছে। তবে নির্যাতনের ধরন পরিবর্তন হয়ে তা আধুনিক হয়েছে। আর গণমাধ্যম সচেতন হওয়ার কারণে এসব নির্যাতনের খবর প্রতিনিয়ত প্রচার হচ্ছে। তিনি বলেন, আধুনিক রূপে নারীর প্রতি যে নির্যাতন হচ্ছে তা প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো—নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া। এখনো শিশুদের প্রতি যে অমানবিক নির্যাতন চলছে তা খুব দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া এসব নির্যাতন প্রতিরোধে সর্বস্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলেন মন্ত্রী। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে সাফল্যজনক ভূমিকা রাখলে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করার কথা বলেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করছে। নির্যাতিতদের আইনি সহায়তা ও অন্যান্য সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব বিষয়ে অনেকেই জানে না। সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগগুলোর কথা জনগণকে জানানোর আহ্বান জানান তাঁরা।


মন্তব্য