kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রতারণা বাড়ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে

ওমর ফারুক   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার মকবুল হোসেনের মোবাইল ফোনে গত আগস্টের মাঝামাঝি একটি এসএমএস আসে। তাতে লেখা ছিল, তিনি একটি ফোন কম্পানির লটারিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার জিতেছেন।

পুরস্কার নিতে তাঁকে বিকাশের মাধ্যমে দ্রুত ১০ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না।

এসএমএসের কথা বিশ্বাস করেন মকবুল হোসেন। ধার করে ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে এসএমএসে দেওয়া নম্বরে দ্রুত বিকাশ করেন তিনি। তবে এর পর থেকে এ বিষয়ে আর কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না। যে নম্বর থেকে এসএমএস পাঠানো হয়েছিল যোগাযোগ করে সেটিও বন্ধ পান। একপর্যায়ে বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

দেশের অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন এ ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছে। লটারি ও বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়ার কথা বলে এসএমএস পাঠিয়ে, পত্রিকায় লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকচক্র। দিন দিন নিত্যনতুন পদ্ধতির আশ্রয় নিচ্ছে প্রতারকরা। এ অবস্থায় পুলিশ ও মোবাইল ব্যাংকিংসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সচেতন হওয়া ছাড়া এসব প্রতারণা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভুয়া কম্পানির নামে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা হচ্ছে। এসব বিজ্ঞাপনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তা থাকে। চাকরি পাওয়ার শর্ত হিসেবে বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত মোবাইল নম্বরে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়। সাধারণ মানুষ সে কথা বিশ্বাস করে টাকা পাঠায়। যত দিনে তারা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারে তত দিনে টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় প্রতারকরা।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অভিযোগ পেলে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতারকদের গ্রেপ্তারে সব সময়ই চেষ্টা থাকে। তবে এসব প্রতারণা থেকে বাঁচতে সচেতনতার বিকল্প নেই। ’

বিকাশের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল ফোনে কারো অনুরোধে লেনদেন করার আগে সত্যতা যাচাই করে নেওয়া উচিত। কোনো ধরনের লটারি বা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে পাঠানো এসএমএস বা ফোন সত্য বলে ধরে নিলে গ্রাহকরা প্রতারণার শিকার হবে। ’

যাত্রাবাড়ীর মকবুল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি বুঝতে পারিনি প্রতারণার শিকার হচ্ছি। ভেবেছিলাম সত্যি সত্যিই পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার পেয়েছি। বুঝতে পারার পর প্রতারণার শিকার হয়েছি। তখন থানায় গিয়ে অভিযোগ করার চিন্তা করছিলাম। কিন্তু পরে ভয়ে আর থানায় যাইনি। ’

কম দামে ল্যাপটপ বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লোকজনকে প্রতারিত করছে একটি চক্র। সেই চক্রের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে কালের কণ্ঠে সংবাদও প্রকাশিত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন করে আবারও সেই প্রতারকচক্র সক্রিয় হয়েছে। তারা আগের মতোই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মিরপুর এলাকার শহীদুল ইসলাম পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দেখেন যে সাড়ে ১৩ হাজার টাকায় ল্যাপটপ বিক্রি করা হচ্ছে। সেটি কেনার জন্য শহীদুল মোবাইলে ফোন করলে প্রতারকচক্র তাঁকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলে। তিনি বিকাশের মাধ্যমে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। প্রতারকচক্র তাঁকে জানায়, তাঁর (শহীদুল) কাছে তাদের মোবাইল টিম ল্যাপটপ পৌঁছে দেবে। একপর্যায়ে শহীদুল বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এরপর তিনি রাজধানীর কাফরুল থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন। কিন্তু পুলিশ জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

শহীদুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আর যাতে কেউ আমার মতো প্রতারিত না হয় সে জন্যই থানায় অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু কোনো প্রতারককে আটক করা হয়েছে, এমন খবর শুনিনি। ’


মন্তব্য