kalerkantho


‘নির্যাতনের’ ক্ষত নিয়ে শিশু গৃহকর্মী হাসপাতালে

নীলফামারী প্রতিনিধি   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ভাঙা হাত এবং শরীরে আরো ক্ষত নিয়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে শিশু আর্জিনা বেগম (১৩)। তার পরিবারের অভিযোগ, টাঙ্গাইলে যে বাড়িতে কাজ করত সেখানে নির্যাতনের শিকার হয়েছে সে। শয্যাশায়ী অবস্থায় তাকে সেখান থেকে ডিমলায় এনে গতকাল রবিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইয়াসমিন ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মেয়েটিকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডান হাতের বাহুর হাড় ভাঙা, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত রয়েছে। সে এখন গুরুতর অসুস্থ, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।

আর্জিনা লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার আরজি শেখ সিন্ধু গ্রামের আনছার আলীর মেয়ে।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ২০০৯ সাল থেকে আর্জিনা টাঙ্গাইল সদরের বিশ্বাস বেতকার শিবনাথ পাড়ার আমির উদ্দিনের ছেলে তাজুল ইসলামের বাড়িতে কাজ করে আসছিল। সেখানে প্রায় এক বছর ধরে তার ওপর নির্যাতন চালাচ্ছিলেন তাজুলের স্ত্রী আমেনা বেগম ও তাঁদের মেয়ে লাভলী আক্তার।

আর্জিনার মা আনজু বেগম বলেন, তাঁর তিন মেয়ে এক ছেলের মধ্যে আর্জিনা সবার বড়। পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে ছয় বছর বয়সে মেয়েকে টাঙ্গাইলে তাজুল ইসলামের বাড়িতে পাঠান। সেখানে প্রথমদিকে ভালোই ছিল সে। প্রতি ঈদে তাঁরা আর্জিনাকে নতুন জামাকাপড় দিয়ে বাড়িতে পাঠাতেন। সেখানে থাকা অবস্থায় ফোনে কথা হতো। কিন্তু ছয় মাস ধরে মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে দিচ্ছিল না ওই বাড়ির লোকজন। ফোনে কথা বলতে চাইলে তাজুল বলতেন, ‘এখন আমি বাইরে আছি, বাসায় গিয়ে কথা কয়ায় দিব। ’ কিন্তু এরপর আর কথা বলিয়ে দিতেন না।

আনজু বলেন, গত রমজান ও কোরবানির ঈদে মেয়েকে আর বাড়িতে পাঠাননি তাজুল। এতে তাঁদের সন্দেহ হয় এবং সে কারণে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর শ্বশুর নূর মোহাম্মদ নাতনিকে আনতে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন আর্জিনা বিছানা থেকে উঠতে পারছে না। অনেক কষ্টে তাকে নিয়ে নূর মোহাম্মদ শনিবার সকালে বাসে করে টাঙ্গাইল থেকে রওনা দেন। বিকেলে ডিমলা উপজেলার সুটিবাড়ীতে এক আত্মীয়ের বাড়ি পৌঁছেন।


মন্তব্য