kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আজ বিশ্ব শিশু দিবস

শিশুর অধিকারের সুরক্ষায় আলাদা অধিদপ্তর জরুরি

রেজাউল করিম   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আলাদা অধিদপ্তর না থাকায় শিশুর অধিকার যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে না। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি ডেস্ক রয়েছে শিশুদের জন্য।

এর পক্ষে সব শিশুর (মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ) অধিকার রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই শুধু শিশুবিষয়ক একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে আজ পালিত হবে বিশ্ব শিশু দিবস।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুধু শিশুদের জন্য আলাদা একটি অধিদপ্তর দরকার। প্রতিটি বিভাগে, জেলায় ও উপজেলায় এর কার্যালয় থাকতে হবে। শিশুর অধিকার রক্ষা, শিশু নির্যাতনের প্রতিকার করা, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রভৃতি বিষয়ে এ অধিদপ্তর বিশেষ নজর রাখবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ শিশু। তাদের একটি বড় অংশ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তারা মুখ খুলতে পারছে না। প্রতিকার চাওয়ার জায়গাটুকুও পাচ্ছে না। শিশু অধিদপ্তর হলে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলাদা এর কার্যালয় হবে। সেখানে শিশু তার অধিকারের কথা, নির্যাতনের প্রতিকার চাওয়ার কথা ও তার সুরক্ষার বিষয়ে কথা বলতে পারবে।

চেয়ারম্যান বলেন, শিশু অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা খুবই জরুরি। এ বিষয়ে গত মে মাসে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সুপারিশপত্র দিয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে। কিছুদিন আগে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এ নিয়ে কাজ করছে। তবে কাজের গতি আরো বেশি হওয়া দরকার। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই শিশুর জন্য আলাদা অধিদপ্তর বা বিভাগ রয়েছে। অধিদপ্তর হলে যেসব মন্ত্রণালয় শিশুবিষয়ক কাজের জন্য বাজেট পায়, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা সম্ভব হবে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান বলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় একই সঙ্গে নারী ও শিশুর অধিকার নিয়ে কাজ করে। দুটি বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করা তাদের জন্য একটু জটিল বলেই মনে হয়। নারীদের বিষয়ে বেশি নজর দিতে গেলে শিশুদের বিষয়গুলো গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। শিশু অধিদপ্তর হলে এ সমস্যা থাকবে না। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, শিশুদের জন্য পৃথক অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি। জনসংখ্যার বড় একটি অংশ শিশু। তাদের জন্য পৃথক অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘পৃথক অবকাঠামো নির্মাণ ও জনবল নিয়োগের চিন্তাভাবনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বেশ আন্তরিক। আশা করি, তাঁর ইচ্ছায় এটি প্রতিষ্ঠিত হবে। অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার জন্য আনুষ্ঠানিক অনেক কিছুই করতে হয়। তাই একটু সময় দরকার। ’

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারম্যান এমরানুল হক চৌধুরী শিশু অধিকার রক্ষায় সরকারের উদ্যোগগুলোকে সফল করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, তাদের জন্য আরো অনেক কিছু করতে হবে। সরকার কৌশলগত কিছু কাজ করতে পারেনি। শিশুদের বিষয়গুলো দেখার জন্য আলাদা বিভাগ বা অধিদপ্তর নেই। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি ডেস্ক শিশুদের ব্যাপারগুলো দেখে। তিনি বলেন, জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশের বিষয়গুলো যদি একজন লোক দেখে, তাহলে কিভাবে তাদের উন্নয়ন হবে? তাই দ্রুত শিশুবিষয়ক আলাদা বিভাগ বা অধিদপ্তর করা হোক।

দেশে তিনটি কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর দেখভাল করে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর। অভিভাবকহীন শিশুদের জন্য ‘সোনামণি নিবাস’-এর দেখভালও করে তারা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, এসবের দেখভালের দায়িত্ব দিতে হবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে।

শিশু আইনে আলাদা অধিদপ্তর : ২০১৩ সালে প্রণীত শিশু আইনের ৮৭ ধারায় শিশু অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়েছে। এ অধিদপ্তর শিশুর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করার জন্য তার মা-বাবা, মা-বাবার অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা বর্ধিত পরিবারের সদস্যকে কাউন্সেলিংসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তার জন্য প্রকল্প বা কর্মসূচি গ্রহণ করবে; শিশুর বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, জীবিকার উপায় নির্ধারণ এবং মা-বাবার সঙ্গে পুনঃ একত্রীকরণের লক্ষ্যে কাউন্সেলিংসহ যথাযথ ও যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নেবে।


মন্তব্য