kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘বাল্যবিয়ে রোধে পরিবার ও কন্যাশিশুকেও সচেতন হতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, ‘বাল্যবিয়ের মূল কারণ শিক্ষার অভাব ও দারিদ্র্য। এ দুই ক্ষেত্রের উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ঝরে পড়া থেকে বিদ্যালয়ে ভর্তির হার বেড়েছে। সরকারের একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। বাল্যবিয়ে রোধে অভিভাবক ও কন্যাশিশুদেরও সচেতন হতে হবে। ’

কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার এফডিসির ৮ নম্বর ফ্লোরে (তেজগাঁও, ঢাকা) কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংলাপে মেহের আফরোজ এসব কথা বলেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় সংলাপে আরো উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম এনডিসি, ডিএমপির উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপপুলিশ কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিন ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি প্রমুখ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাল্যবিয়ে অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। আগে ৯-১০ বছর বয়সে বাল্যবিয়ে হতো। কিন্তু বর্তমানে গড়ে ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হচ্ছে। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বাল্যবিয়ের হার আরো কমে আসবে।

সচিব নাছিমা বেগম বলেন, বাল্যবিয়ে বন্ধে সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিশোরীদের ক্ষমতায়নের জন্য সারা দেশে কিশোরী ক্লাব গঠন এবং কিশোরী ও নারীদের উপার্জনে সেলাই ও বিউটিফিকেশন প্র্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শিশু নির্যাতন বন্ধে ন্যাশনাল হেল্পলাইনও স্থাপন করা হয়েছে।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, নারী ও কন্যাশিশুদের নির্যাতন বন্ধে বাংলাদেশ পুলিশ সক্রিয়। ডিএমপিতে উইমেন সাপোর্ট ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। কেউ নির্যাতনের শিকার হলে তাকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে পাঁচ দিন পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার হওয়া নারী ও শিশুদের সহায়তা দেওয়া হয়। নির্যাতনের কোনো সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করাও হয়।

‘শিশু অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি

মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, দেশে যুবক ও মহিলাদের জন্য পৃথক অধিদপ্তর থাকলেও শিশুদের জন্য পৃথক অধিদপ্তর নেই। এখন একটি শিশুবিষয়ক অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি। কারণ দেশের মোট জনসংখ্যার বেশির ভাগই শিশু।

বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন (বিডিএফ), ম্যানেজমেন্ট রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও ইউনিসেফের আয়োজনে ‘সংবাদমাধ্যমে শিশু : নীতি-নৈতিকতা ও ধারণা’ নিয়ে দেশব্যাপী জাতীয় প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্যায়ে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গতকাল শনিবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। গতকাল বিকেলে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, শিশুদের জন্য একটি পৃথক অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার জন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান। মন্ত্রী বলেন, শিশুদের চলাফেরার প্রতি সব সময় অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে। যাতে করে শিশু কোনোভাবেই বিপথে না যায়।


মন্তব্য