kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অবৈধ টিভি চ্যানেল সম্প্রচার যন্ত্রাংশ জব্দ, গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অবৈধভাবে টিভি চ্যানেলের কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর শাহাজাদপুর থেকে চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে টিভি চ্যানেল সম্প্রচারের যন্ত্রাংশ ও পাইরেটেড সিডি জব্দ করা হয়েছে।

শাহাজাদপুরে পলাশ টাওয়ারে অনুমোদনহীন ‘নেহা টেলিভিশন’ ও ‘এইচ বাংলা’ টিভি অফিসে অভিযান চালিয়ে ওই সব সরঞ্জাম জব্দ করেছে র‌্যাব। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলো অবৈধ চ্যানেল দুটির এমডি ইব্রাহীম হোসেন হাওলাদার, মার্কেটিং অফিসার রাশেদ হোসেন স্বপন, এডিটর শামীম আহম্মেদ ও বিশেষ প্রতিনিধি বোরহান উদ্দিন।

র‌্যাব জানায়, বিদেশিদের যোগসাজশে বাংলাদেশের একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে টিভি চ্যানেল সমপ্রচার চালাচ্ছে। তারা দেশীয় বিভিন্ন জনপ্রিয় ও সদ্য মুক্তি পাওয়া সিনেমা-নাটক তাদের চ্যানেলে প্রচার করছে। শুধু তাই নয়, পর্নো সিনেমা বাংলা ছবিতে কাটপিস করে প্রচার করে আসছে তারা। এই চক্র দেশের ৩৪টি জেলায় লোকাল কেবল অপারেটরের সহায়তায় বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর সমপ্রচার কেন্দ্র থেকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সমপ্রচার করে থাকে।

গতকাল শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান, গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের কাছ থেকে টিভি চ্যানেলের সার্ভার পরিচালনায় ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, পাঁচটি মনিটর, ছয়টি সিপিইউ, চারটি ইউপিএস, ছয়টি কিবোর্ড, ১৪টি রিসিভার, ১৪টি রিসিভার রিমোট, দুটি টিভি কার্ড, ১৮টি পেনড্রাইভ, একটি প্রিন্টার, একটি স্ক্যানার, চারটি স্পিকার, একটি রাউটার, ৯টি মোবাইল ফোনসেট ও বিপুল পরিমাণ স্যাটেলাইট সম্প্রচারের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এবং ১১ হাজার ১০৫ টাকা জব্দ করা হয়। মূলত তাদের সম্প্রচার কার্যাবলি ছিল বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সিনেমা, নাটক ফাইলজিলা নামক সফটওয়্যার ব্যবহার করে সিঙ্গাপুরে সম্প্রচার কেন্দ্রে পাঠিয়ে সেখান থেকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কেবল অপারেটর বা ব্যক্তিগত ডিশ অ্যান্টেনার মাধ্যমে সম্প্রচার করা হতো। এই চক্র আগে অবৈধ সিডি পাইরেসি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। ফলে মিডিয়া অঙ্গনে বিভিন্ন কারিগরি দক্ষ বক্তিদের সঙ্গে তাদের গোপন সখ্যও ছিল।

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মচারী নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে পদচারণ করত এবং বিজ্ঞাপন হাতিয়ে নিত।


মন্তব্য