kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিএনপিতে একাধিক পদ আঁকড়ে আছেন অনেকে

শফিক সাফি   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বিএনপিতে একাধিক পদ আঁকড়ে আছেন অনেকে

বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কমিটিতে অনেক ত্যাগী নেতা পদবঞ্চিত হয়েছেন। তাঁদের কমিটিতে জায়গা করে দিতেই নেওয়া হয়েছিল ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি।

একাধিক পদ আঁকড়ে থাকা নেতাদের বলা হয়েছিল বাড়তি পদ ছেড়ে দিতে। গত ১৯ মার্চের কাউন্সিলে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি নেওয়ার পর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ছয়টি মাস। মাঝে দেড় মাস আগে ৫০২ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এত দিনেও নানা অজুহাতে একাধিক পদ আঁকড়ে থাকা বেশ কয়েকজন নেতা বাড়তি পদ ছাড়তে চাচ্ছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির ৫০২ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে একাধিক পদে রয়েছেন এমন নেতাদের মাত্র ১৫ জন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বাকি বেশ কিছু নেতা এখনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি।

জানা গেছে, একাধিক পদ আঁকড়ে থাকা নেতাদের সঙ্গে দপ্তর থেকে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে দ্রুত পদ ছেড়ে আরেকজনকে সুযোগ দিতে। এতে কাজ না হলে সামনের মাসে তাঁদের নামে চিঠি ইস্যু করা হবে। চিঠিতে সময়ও বেঁধে দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদ না ছাড়লে তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে ‘বাধ্যতামূলক পদচ্যুতি’।

জানতে চাইলে বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের পর থেকে আমরা টেলিফোনে নেতাদের সঙ্গে কথা বলছি। বাড়তি পদ দ্রুত ছেড়ে দিতে তাঁদের অনুরোধ করা হচ্ছে। কেউ কথা না শুনলে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিঠি ইস্যু করা হবে। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনো কাউকে কোনো চিঠি পাঠানো হয়নি। তবে চিঠি তৈরি হয়ে আছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র নেতারা নির্দেশ দিলেই তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ’

নতুন নির্বাহী কমিটি গঠনের পর একাধিক পদ ধরে রাখা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, রফিকুল ইসলাম মিয়া ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তাঁরা ঢাকা মহানগরের পদে দায়িত্ব পালন করছেন। যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল একই সঙ্গে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে রয়েছেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যিনি দলের পটুয়াখালীর জেলা কমিটির সভাপতি। শামসুজ্জামান দুদু কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতির পদ এবং মাজিদুল ইসলাম খুলনা জেলা সভাপতি পদে রয়েছেন। নতুন কমিটির উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি, মসিউর রহমান ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি, মেহেদী আহমেদ রুমী কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি, আবুল খায়ের ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি, তৈমুর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি, এ কে এম মোশাররফ হোসেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা সভাপতি পদেও রয়েছেন।

ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন গাজীপুর জেলা সভাপতি, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার বরিশাল মহানগর সভাপতি, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী জেলা সভাপতির পদ ধরে রেখেছেন।

রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাট জেলা সভাপতি, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোর জেলা সভাপতি, খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে থাকা নেতাদের মধ্যে বিশেষ সম্পাদক নাদিম মোস্তফা রাজশাহী জেলা সভাপতি, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন অসীম ঢাকা মহানগর বিএনপির পদ, জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া ফরিদপুর জেলা সভাপতি, সহ-পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মোজাহার আলী প্রধান জয়পুরহাট জেলার সভাপতি পদে রয়েছেন।

নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম বগুড়া জেলা সভাপতি, এম নাছের রহমান মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি, জিকে গউছ হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক, আনোয়ার হোসাইন শ্রমিক দল সভাপতি, হুমায়ুন কবির খান তাঁতী দল সভাপতি, রফিকুল ইসলাম মাহতাব মত্স্যজীবী দল সভাপতি, মীর সরাফত আলী সপু স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক, মনির খান জাসাস সাধারণ সম্পাদক, শফিউল বারী বাবু স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়ে গেছেন। দলের সিদ্ধান্ত মেনে মহাসচিবের পদ রেখে বাকি পদ ছেড়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে ঝালকাঠি জেলা সভাপতির পদ ছেড়েছেন শাহজাহান ওমর, নোয়াখালী জেলা সভাপতির পদ ছেড়েছেন মো. শাহজাহান, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি আহমদ আজম খান, ঢাকা মহানগরের পদ ছেড়েছেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির পদ ছেড়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

উপদেষ্টাদের মধ্যে ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়েছেন আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক ছেড়েছেন সেনবাগ উপজেলা বিএনপির পদ, যুবদল সভাপতির পদ ছেড়েছেন যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বরিশাল মহানগর মহিলা দল সভাপতির পদ ছেড়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, মত্স্যজীবী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ ছেড়েছেন কুমিল্লা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান।

জানতে চাইলে খায়রুল কবির খোকন কালের কণ্ঠকে জানান, ‘এখনো পদ ছাড়িনি। দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। আরো বেশ কয়েকজন নেতার বক্তব্যও একই রকম।

ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘কে কিভাবে দেখছে তা বলে লাভ নেই। একটি নির্দিষ্ট সময় পর কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। ’


মন্তব্য