kalerkantho


সাভারে যুবদল নেতা লক্ষ্মীপুরে ‘দস্যু’ নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সাভারে যুবদল নেতা লক্ষ্মীপুরে ‘দস্যু’ নিহত

গ্রেপ্তারের পর ঢাকার অদূরে সাভারে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। লক্ষ্মীপুরের রামগতি এলাকায় নিহত হয়েছে একজন, যাকে জলদস্যু বলে দাবি করেছে পুলিশ।

গত শুক্রবার গভীর রাতে সাভারের বিরুলিয়ায়, গতকাল শনিবার ভোরে রামগতির বিবিরহাটে এ দুটি ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।

বিরুলিয়ায় নিহত শাহ আলম নয়ন (৪২) সাভার পৌরসভার মালঞ্চ আবাসিক এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি পৌর শাখা যুবদলের (এক অংশের) সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এর আগে তিনি ছিলেন পৌর শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।

অন্যদিকে রামগতির বিবিরহাট এলাকায় নিহত ব্যক্তির নাম মো. নিজাম ওরফে নিজাম ডাকাত। সে নোয়াখালীর চরজব্বার এলাকার আবদুস সালামের ছেলে।

উল্লেখ্য, গত ৯ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১৫০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র। গত শুক্রবার বেসরকারি এ সংগঠনটি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করে।

গতকাল যুবদল নেতা শাহ আলম নয়নের ছোট ভাই মাসুদ আলম লিটন জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তাঁর ভাইকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তন্ময় কুমার ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আহসান হাবিব ওই অভিযানে ছিলেন।

মাসুদ আরো বলেন, নয়নকে গ্রেপ্তার করে আনার পর থানা হাজতে রাখা হয়। তবে পরিবারের কোনো সদস্যকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি পুলিশ। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে নয়নকে থানা থেকে নিয়ে যেতে দেখেছে তাঁদের পরিবারের অন্য সদস্য ও স্বজনরা।

সাভার মডেল থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান বলেন, নয়নকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর হেফাজতে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি। সে অনুযায়ী পুলিশ রাতে সাভারের বিরুলিয়া কৃষিবিদ নার্সারি এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের জন্য যায়। এ সময় আগে থেকে অবস্থান নিয়ে থাকা নয়নের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। তখন নয়ন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দুপক্ষের গুলির মধ্যে পড়েন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নয়নকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে মানুষ হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তিনি একটি মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন।

ওসি আরো জানান, ‘বন্দুকযুদ্ধের’ পর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ওয়ানশুটার গান, দুটি গুলি, চারটি ছোরা ও দুটি রাম দা উদ্ধার করেছে । এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। নয়নের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে।

লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানার পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে জলদস্যু নিজামকে উপজেলার বয়ারচর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে নিয়ে রাতে অস্ত্র উদ্ধার ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের জন্য বিবিরহাট এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। গতকাল ভোরের দিকে সেখানে পৌঁছলে জলদস্যুরা পুলিশকে গুলি করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলে নিজাম নিহত হয়; অন্যরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় রামগতি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হুমায়ুন, কনস্টেবল মো. মুসা ও নুর উদ্দিন সামান্য আহত হন। তাঁরা রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ আরো জানায়, ‘বন্দুকযুদ্ধের’ পর ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় হালকা বন্দুক (এলজি), দুটি গুলি ও দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

রামগতি থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, নিজাম চিহ্নিত জলদস্যু। মেঘনা নদীতে বিভিন্ন নৌযানে, বিশেষ করে জেলেদের নৌকায় ডাকাতি করে বেড়াতেন তিনি। নিজামের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি ও অপহরণের চারটি মামলা রয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি।


মন্তব্য