kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাইকগাছায় পল্লী রেশনিং

অনিয়মের অভিযোগ তালিকা তৈরিতে

খুলনা অফিস   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



খুলনার পাইকগাছায় পল্লী রেশনিংয়ের আওতায় চাল বিক্রির জন্য দরিদ্র মানুষের যে তালিকা করা হচ্ছে তাতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সমন্বয়হীনতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উঠেছে ঘুষ দিয়ে ডিলার নিয়োগ পাওয়ারও অভিযোগ।

‘খাদ্যবান্ধব’ কর্মসূচির আওতায় গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজিতে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দিচ্ছে সরকার। মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—এই পাঁচ মাস এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও খাদ্য বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলায় হতদরিদ্রদের মাঝে সুলভমূল্যে চাল বিতরণের জন্য একটি পৌরসভা বাদে ১০ ইউনিয়নে ১৩ হাজার ১০০ কার্ডের তালিকা করার সিদ্ধান্ত হয়। জনসংখ্যার ভিত্তিতে তালিকাটি হওয়ার কথা। এ ছাড়া চাল বিক্রির জন্য ২৫ জন ডিলার নিয়োগেরও সিদ্ধান্ত হয়।

এখন পর্যন্ত কপিলমুনি, লতা, গড়ইখালী ছাড়া বাকি সাতটি ইউনিয়নের অসম্পূর্ণ তালিকা খাদ্য বিভাগে জমা হয়েছে। ডিলার নিয়োগে উপজেলা কমিটির রেজুলেশন একাধিকবার কাটছাঁট করে ২৫ জন ডিলারের নিয়োগও চূড়ান্ত হয়েছে।

উপজেলার সোলাদানাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরিতে অর্থ গ্রহণ, বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর সোলাদানা ইউনিয়ন শাখা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এস এম শাহাবুদ্দিন সানা ও সম্পাদক বিমল সরকারসহ একাধিক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এই অভিযোগ করেন। তাঁরা এর জন্য সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান, কয়েকজন মেম্বার ও তাঁদের সমর্থকদের দায়ী করেছেন।

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশ না করে একাধিক ব্যক্তি বলেন, পাইকগাছায় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে নানা অনিয়ম চলছে। কেউ এ বিষয়ে কোনো কথা বলছে না। আর খাদ্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তা এর সুযোগ নিয়েছেন।

অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এস এম এনামুল হক। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইউপি সদস্য, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিটির মাধ্যমে তালিকা করা হয়েছে। অনিয়মের প্রশ্নই ওঠে না। ’

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত ৯ সদস্যের উপজেলা কমিটির সভা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সদস্যসচিব উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক। ওই সভায় হলিঢালী ইউপিতে ডিলার নিয়োগ পেতে আবেদনকারীদের মধ্যে মো. হাফিজ শেখ ও জালাল সরদার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হন। সে জন্য কমিটি ইউনিয়ন কৃষক লীগের আহ্বায়ক রণজিৎ কুমার দে, মো. রজব আলী ও স্বপন কুমার সাহাকে ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। সেভাবেই রেজুলেশন করা হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পর অজ্ঞাত কারণে উপজেলা কমিটি বাদপড়া হাফিজ শেখকে আবার অন্তর্ভুক্ত করে রেজুলেশন তৈরি করে। বাদ দেওয়া হয় রণজিৎ কুমার দেকে।

রণজিৎ কুমার অভিযোগ করে বলেন, ‘টাকা নিয়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে প্রথমে রাখা হলেও পরে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। ’

লতা ইউনিয়নের হালদন্ত্রচক গ্রামের বিধান রায় জানিয়েছেন, প্রথম রেজুলেশনে তিনি নিয়োগ পেলেও পরে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

অবশ্য ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম ফিরোজ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অর্থ গ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না, উপজেলা কমিটি যেভাবে চেয়েছে সেভাবে ডিলারদের চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে। ’ অবশ্য বার বার রেজুলেশন পরিবর্তনের বিষয়ে এ খাদ্য কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করেননি।


মন্তব্য