kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অফিস সহকারীর বর্বরতা

পুকুরে গোসল করায় প্লাস দিয়ে শিশুর নখ তুলে ফেলা হলো

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পুকুরে গোসল করায় প্লাস দিয়ে শিশুর নখ তুলে ফেলা হলো

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে নির্যাতনের শিকার শিশু সাব্বির। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের ৯ নম্বর বিছানায় শিশু সাব্বির শুয়ে আছে। তার হাতের আঙুলে ব্যান্ডেজ।

যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশুটি। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আছে আঘাতের চিহ্ন। কী হয়েছে তোমার জানতে চাইলে বলল, ‘গোসল করতে পুকুরে নেমেছিলাম। আমাকে মেরেছে। প্লাস দিয়ে নখ উঠিয়ে ফেলেছে। ’ শিশুর ওপর এমন বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে।

পুকুরে গোসল করা আর বাগানের ফুল ছেঁড়ার অভিযোগে শিশু সাব্বিরকে পিটিয়ে প্লাস দিয়ে হাতের এক আঙুলের নখ তুলে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঝালকাঠি জেলা পরিষদের গোপনীয় সহকারী (সিএ) মো. সালাহউদ্দিন শিশুর ওপর এমন নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ সাব্বিরের পরিবারের। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা পরিষদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সাব্বিরকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে স্থানীয় কুতুবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। জেলা পরিষদ এলাকার সবজি বিক্রেতা নূরে আলমের ছেলে সাব্বির।

নূরে আলমের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিদ্যালয় ছুটি শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে মো. সাব্বির জেলা পরিষদের ভেতরের পুকুরে গোসল করতে যায়। পুকুরে গোসল করার সময় তাকে সেখান থেকে উঠিয়ে লাঠি দিয়ে পেটানো শুরু করে জেলা পরিষদের গোপনীয় সহকারী (সিএ) মো. সালাহউদ্দিন। মারধরের সময় দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেও নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি শিশুটি। সালাহউদ্দিন দৌড়ে গিয়ে তাকে জাপটে ধরে টেনেহিঁচরে ফের পুকুর পাড়ে নিয়ে আসে। দ্বিতীয় দফায় শিশুটির ওপর শুরু হয় নির্যাতন। শিশুটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সালাহউদ্দিনের পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে। তাকে আর না মারার অনুরোধও করে। সালাহউদ্দিন ওই শিশুর কোনো কথা না শুনে প্লাস দিয়ে শিশুটির ডান হাতের একটি আঙুলের নখ তুলে ফেলে। এ সময় শিশুটিকে চোর বলেও আখ্যায়িত করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মারধরের সময় সালাহউদ্দিন শিশুটিকে বলছিল, ‘তুই ফুলগাছের চারা চুরি করিস। তোকে এখানে গোসল করতে আসতে নিষেধ করেছিলাম। তার পরও কেন এলি। আজ মজা বুঝবি। ’ ঘটনার পর শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বাসায় পৌঁছলে তার বাবা দ্রুত তাকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহত সাব্বির জানায়, “আমি পায়ে ধরে কান্না করলেও উনি থামেনি। আমাকে দুই দফায় লাঠি দিয়ে মেরেছে। মারতে মারতে বলে, ‘কোন হাত দিয়ে ফুলের চারা চুরি করিস, আজ সেই হাত ভেঙে ফেলব। ’ এ কথা বলেই প্লাস দিয়ে আমার ডান হাতের আঙুলের নখ টেনে তুলে ফেলে। ”

আহত শিশুর বাবা নূরে আলম বলেন, ‘জেলা পরিষদের সামনেই আমাদের বাড়ি। সুগন্ধা নদীতে আমরা গোসল করি। সাব্বির ছোট মানুষ, তাই নদীতে নামতে ভয় পায়। এ জন্য সে জেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করে। অনেক মানুষই সেখানে গোসল করে। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর করে তার নখ তুলে ফেলে জেলা পরিষদের কর্মচারী সালাউদ্দিন। বাবা হয়ে ছেলের ওপর এমন নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না। সদর হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসা চলছে। ’ এ ব্যাপারে থানায় মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

মারধর ও নখ তুলে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করে ঝালকাঠি জেলা পরিষদের অফিস সহকারী মো. সালাহউদ্দিন জানায়, সাব্বির প্রায়ই গোসল করার পরে জেলা পরিষদের ভেতর থেকে ফুলের চারা চুরি করে নেয়। এ জন্য তাকে জেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তার পরও সে গোসল করতে আসে আর ফুলের গাছ নষ্ট করে। এ জন্য তাকে শাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। লাঠি হাতে থাকলেও তাকে মারা হয়নি। দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে তার হাতের নখ উঠে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের চিকিৎসক হাসান মাহমুদ জানান, ছেলেটিকে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে। পিঠে দাগ আছে। হাতের নখ মারত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তার।


মন্তব্য