kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘বাঁচাও সুন্দরবন’ মিছিলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের বাধা

১০ আন্দোলনকারী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘বাঁচাও সুন্দরবন’ মিছিলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের বাধা

রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে গতকাল রাজধানী থেকে সাইকেল মিছিল বের হলে তাতে পুলিশ বাধা দেয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে ‘বাঁচাও সুন্দরবন’ সাইকেল মিছিলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বাধা দিয়েছে। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা সাইক্লিস্টদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অন্তত তিন ঘণ্টা ঘেরাও করে রেখেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ ছাড়া ছাত্রলীগের হামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হাসিব মোহাম্মদ আশিকের ডান হাত ভেঙে গেছে। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ মিছিলে বাধা দেওয়া ছাড়াও ১০ জনকে আটক করেছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের জলকামান ও ছাত্রলীগের বাধা পেরিয়ে সাইক্লিস্টরা প্রেস ক্লাবে গিয়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে লাল কার্ড দেখিয়েছে।

রাজধানীর দুই থানায় ১০ জন রামপালবিরোধী সাইক্লিস্টকে পুলিশ আটক করেছে বলে জাতীয় কমিটির নেতারা দাবি করেছেন। আটককৃত দুজনকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়েছে। বাকি আটজনকে রাখা হয়েছে তেজগাঁও থানায়। গতকাল রাত ৮টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শাহবাগ থানার পুলিশ দুজনকে ছেড়ে দিলেও তেজগাঁও থানার পুলিশ আটককৃতদের ছাড়েনি।

পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সাইকেল মিছিলটি গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে জিগাতলা, আসাদ গেট, সংসদ ভবন ঘুরে শাহবাগ হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শহীদ মিনারেই ছাত্রলীগের বাধার মুখে পড়ে মিছিলটি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কিছুসংখ্যক তরুণ ফেসবুকে ‘বাঁচাও সুন্দরবন’ শীর্ষক সাইকেল মিছিলের একটি ইভেন্ট খোলে। এর অংশ হিসেবে গতকাল সুন্দরবন বাঁচানোর দাবিতে সকাল ৯টা থেকে প্রায় দেড় শ সাইক্লিস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হয়। কিন্তু ছাত্রলীগ আগেই সেখানে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে মানববন্ধন শুরু করে। এ সময় ছাত্রলীগের মানববন্ধনে সাইক্লিস্টরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ও শিল্পী কফিল আহমেদের নেতৃত্বে সাইকেল মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে বেরোনোর চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের মানববন্ধন থেকে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে মানববন্ধনে অংশ নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হয়। আর এসব সাধারণ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে সাইকেল মিছিলে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সাইকেল মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়।

পুলিশ ও ছাত্রলীগের এমন বাধা ডিঙিয়ে সাইকেল মিছিলটি একপর্যায়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে পৌঁছে। সেখানে তারা বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা একযোগে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে লাল কার্ড দেখায়। এ সময় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সাইকেল মিছিলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের দফায় দফায় হামলায় এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে সরকার ভয় পেয়েছে এবং সরকারের নৈতিক পরাজয় ঘটেছে।

মিছিলে বাধাদান ও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, প্রগতিশীল ছাত্রজোট, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য, গণ-অধিকার সংগ্রাম কমিটি, সর্বপ্রাণ সাংস্কৃতিক শক্তি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।


মন্তব্য