kalerkantho


আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস আজ

নিদারুণ কষ্টে আছেন গঙ্গাচড়ার প্রবীণরা

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নিদারুণ কষ্টে আছেন গঙ্গাচড়ার প্রবীণরা

অসহায় এক প্রবীণকে সেবা দিচ্ছেন আরেক প্রবীণ। ছবিটি রংপুরের গঙ্গাচড়ার মান্দ্রাইলের। ছবি : কালের কণ্ঠ

আজ ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। বাংলাদেশসহ বিশ্বে যখন দিবসটি পালিত হচ্ছে ঠিক তখন রংপুরের গঙ্গাচড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার প্রবীণ সুবিধাবঞ্চিত হয়ে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

অভাবী এলাকা হিসেবে পরিচিত রংপুরের গঙ্গাচড়ায় প্রবীণদের নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গঙ্গাচড়ার ১০ ইউনিয়নে মোট প্রবীণের সংখ্যা ১৮ হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ১৬ জন ও নারী আট হাজার ৯৬৫ জন। তাঁদের মধ্যে ছয় হাজার ৪০০ জন খুবই অসচ্ছল। এক হাজার ৩৮৯ জন প্রবীণ বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও ভিজিএফসহ সরকারি বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করলেও প্রায় পাঁচ হাজার প্রবীণ কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। এমনকি বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়ায় পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের ভালো চোখে দেখে না। একসময় পরিবারের কর্তার ভূমিকায় থাকলেও জীবনের পড়ন্তবেলায় এসে অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাঁদের।

কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে দেখা যায়, সমাজ-সংসার কোথাও যেন দাম নেই তাঁদের। শ্রম বিক্রি করলেও সমান মজুরি দেওয়া হয় না তাঁদের। গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের পাইকান কাজীপাড়া গ্রামের ৭৫ বছর বয়সের আব্দুর রাজ্জাক। ছোটবেলায় মারা যান মা-বাবা। অভাবী সংসারের হাল ধরতে ছোটবেলা থেকেই দিনমজুরি করতে হয় তাঁকে। শেষ বয়সে এসেও অভাব পিছু ছাড়েনি তাঁর। কাজ না করলে উপোস থাকতে হয়। কঠিন পেটের ব্যথায় কখনো সোডা, কখনো ইউরিয়া খেয়ে নিজেকে সামলে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। আব্দুর রাজ্জাক জানান, দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। বর্তমানে তাঁর স্ত্রীর জরায়ুতে ক্যানসার ধরা পড়ায় ধারদেনা করে অপারেশন করা হয়েছে। এখন দুজনের সংসারে দুমুঠো খাবার জোটে না। স্ত্রীর ওষুধ কিনতে এই বয়সে মজুরের কাজ করতে হয় তাঁকে। দুঃখ করে তিনি বলেন, ‘বয়স হইছে দ্যাকি গেরস্তরা মোক মজুরিও কম দেয়। ’

কোলকোন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোলকোন্দ মাষ্টারপাড়া গ্রামের মিনতি বালা। পিতৃ-মাতৃহীন মিনতি বালার ১১ বছর বয়সে বিয়ে হয় একই এলাকার প্রিয়নাথের সঙ্গে। তিস্তার ভাঙনে জমি-জিরেত হারিয়ে অন্যের জমিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে তাঁদের। দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করেছে। সংসার চালাতে অধিক পরিশ্রমে পঙ্গু হয়েছেন স্বামী প্রিয়নাথ। স্বামীর চিকিৎসার সামর্থ্য নেই ৬০ বছর বয়সের মিনতি বালার। বিবাহযোগ্য দুই মেয়েকে নিয়ে মিনতি বালার আজ বড় দুর্দিন। তিনি বলেন, ‘ভাঙা ঘরোত অসুস্থ স্বামী ও মেয়েদের চিন্তায় নিন (ঘুম) ধরে না। আগের মতোন কামও (কাজ) করবার পাও না। এত কষ্ট আর সয়না। ’ এমনি করে অভাবী পরিবারের প্রবীণরা অসুস্থ শরীর নিয়ে অভাব-অনটনে অসহায় জীবন যাপন করছেন।

উপজেলা প্রবীণ কমিটির সভাপতি তৈয়ব উদ্দিন সরকার বলেন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অসহায় প্রবীণদের অন্তর্ভুক্ত করলে শেষ বয়সে এসে অন্তত তাঁদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে।


মন্তব্য