kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বগুড়ায় কলেজ শিক্ষার্থী খুন

প্রতিবাদে ভাঙচুর আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বগুড়ায় কলেজ শিক্ষার্থী খুন

ইব্রাহিম হোসেন

বগুড়া শহরে ইব্রাহিম হোসেন সবুজ (১৮) নামের সরকারি আযিযুল হক কলেজের এক শিক্ষার্থী খুন হয়েছেন। তিনি ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজের গেটে রিকশা ভাড়া নিয়ে তর্কের জেরে স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এরই এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাতের শিকার হন সবুজ ও শিবলী নামের দুজন শিক্ষার্থী। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা সবুজকে মৃত ঘোষণা করেন। খুনের ঘটনার প্রতিবাদে কলেজ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধকালে ভাঙচুর ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করেছে।

বগুড়া সদর থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় বিরোধ এবং এর জের ধরে খুনের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খুনের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে।

কলেজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইব্রাহিম হোসেন সবুজ কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর বাড়ি কাহালু উপজেলার নাহারপাড়া গ্রামে। বাবার নাম সাইফুল ইসলাম।

সংঘর্ষের বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ফুলবাড়ী এলাকায় কলেজের পুরাতন ভবনের সামনে ভাড়া নিয়ে এক রিকশাচালকের সঙ্গে তর্ক হয় কলেজের এক শিক্ষার্থীর। ছাত্রলীগকর্মী ওই শিক্ষার্থী রিকশাচালককে মারধর করলে বাধা দেয় স্থানীয় যুবকরা। বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়া এসব যুবকরা এক সময় কলেজ ছাত্রলীগের ওই কর্মীকে মারধর করে। আযিযুল হক কলেজের এ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ঘটনা জানালে শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে গেটে ছুটে আসে এবং স্থানীয় যুবকদের তারা মারধর করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে কলেজ ছাত্রলীগের নেতারা ফুলবাড়ী এলাকায় পুরাতন ভবনে পৌঁছে উভয় পক্ষের সমঝোতার উদ্যোগ নেন। উত্তেজনার মধ্যেই দুপুর দেড়টার দিকে শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুর নেতৃত্বে স্থানীয় একটি গ্রুপ কলেজ গেটে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময়েই ছুরিকাঘাতের শিকার হন সবুজ ও শিবলী। তাঁদের দ্রুত নেওয়া হয় জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সবুজকে মৃত ঘোষণা করেন।

সূত্র জানায়, কলেজ ছাত্র সবুজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর পাশাপাশি কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। তারা শহরের ফুলবাড়ী ও কামারগাড়ী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। বিক্ষুব্ধরা যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু করলে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রলীগকর্মীরা শহরের সাতমাথার দিকে অগ্রসর হয়ে একটি প্রাইভেট কার ও তিনটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। পরে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সভা করা হয় টেম্পল রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে। বিকেল ৪টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, সবুজ হত্যার ঘটনায় যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলামসহ কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।


মন্তব্য