kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শ্রীপুরে ডিবি পুলিশ সেজে টাকা ছিনতাই

জনতার হাতে ধরা তিন প্রতারক

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গাজীপুরের শ্রীপুরের জৈনাবাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পরিচয়ে টাকা ছিনতাই করে পরে পালানোর সময় জনতার হাতে আটক হয়েছে তিন প্রতারক। আটক ব্যক্তিরা হলো সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বলদে গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, কুষ্টিয়ার ঘাগটিয়া গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে রুহুল আমীন ও কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাংরা গ্রামের লতিফের ছেলে আলমগীর হোসেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, জৈনাবাজার এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায় প্রতারকরা।

জানা গেছে, শ্রীপুরের জৈনাবাজার এলাকায় শৈলাটরোডে মুদি ব্যবসা করেন পাশের ধনুয়া গ্রামের আবুল হোসেন গাজীর ছেলে আবদুল মান্নান। গতকাল সকালে তিনি পাশের উপজেলা ময়মনসিংহের ভালুকার সিডস্টোর সোনালী ব্যাংকে টাকা তুলতে যান।

ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান জানান, ব্যাংক থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে তিনিসহ তাঁর ছোট ভাই আবুল কাশেম মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন। মহাসড়কে উঠতেই কালো রঙের একটি মাইক্রোবাস তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাইক্রোবাস থেকে দুজন নেমে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোর করে তাঁকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। ওই সময় ‘কোনো অভিযোগ আছে কি না’ জানতে চাওয়ায় তাঁর ছোট ভাইকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে মহাসড়কে ফেলে দেয় প্রতারকরা। এরপর বেপরোয়া গতিতে মাওনা চৌরাস্তা ফ্লাইওভারের ওপর পৌঁছার পর টাকা রেখে মাইক্রোবাস থেকে ফেলে দেওয়া হয় তাঁকে। আবদুল মান্নান আরো জানান, তাঁর চিৎকারে আশপাশের মানুষ তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।

আবদুল মান্নানের ছোট ভাই আবুল কাশেম জানান, টাকা ছিনতাইয়ের পর তাঁর বড় ভাইকে মহাসড়কে ফেলে দিয়ে ওই মাইক্রোবাস নিয়ে প্রতারকচক্রের সদস্যরা ফের ময়মনসিংহের দিকে পালাচ্ছিল। পথে জৈনাবাজার পৌঁছামাত্র মাইক্রোবাসটি চিনে ফেলে তিনিসহ বাজারের ব্যবসায়ীরা ধাওয়া করে গতিরোধ করে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়, আটকের পর তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

শ্রীপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আটক তিনজনের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। তাদের কাছে ছিনতাইয়ের টাকা পাওয়া যায়নি। ’


মন্তব্য