kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মানিকগঞ্জ

সুপ্রিয়া হত্যায় ভাড়াটে খুনি!

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কলেজ ছাত্রী সুপ্রিয়া হত্যার প্রতিবাদে ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে মানিকগঞ্জবাসী। সুপ্রিয়ার সহপাঠীসহ মানিকগঞ্জের সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ আর মানববন্ধনের মাধ্যমে খুনিদের ফাঁসির দাবি করেছে।

এদিকে আটক সুপ্রিয়ার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে কোর্টে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। তবে আদালত তিন দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন। ভাড়া করা খুনিকে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে সুপ্রিয়ার বাবা দাবি করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ও খান বাহাদুর আওলাদ হোসেন কলেজের শিক্ষার্থীসহ মানিকগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। পরে মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাব চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কমরেড আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সুপ্রিয়ার বাবা সুকুমার সাহা, পৌর কমিশনার আব্দুল রাজ্জাক রাজা, সহপাঠী নন্দিতা সাহা, কার্লিস রহমান প্রমুখ।

বক্তব্য দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন সুপ্রিয়ার বাবা সুকুমার সাহা। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, তিন থেকে চারজন ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাঁর মেয়েকে হত্যা করিয়েছে সুপ্রিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তিনি ওই ভাড়াটে খুনিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। সুপ্রিয়ার শ্বশুর অনেক সম্পদের মালিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, টাকাপয়সা দিয়ে সবকিছু ম্যানেজ করার চেষ্টা চলছে। সঠিক বিচার পাব কি না, তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

এই হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মানিকগঞ্জ সদর থানার এসআই মাসুদ মুন্সী জানান, সাত দিনের রিমান্ড চাইলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ হত্যারহস্য উন্মোচিত হবে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিয়া হত্যাকাণ্ডে বহিরাগতরা জড়িত আছে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা জানান, হত্যার মোটিভ এবং কিভাবে হত্যা করা হয়েছে—এর অনেকটাই পুলিশের কাছে পরিষ্কার। প্রসঙ্গত, গত বুধবার সকালে মানিকগঞ্জের দাশড়া মহল্লায় শ্বশুর দীলিপ সরকারের ভাড়া বাসায় নিজ ঘর থেকে সুপ্রিয়ার বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করা হয়।


মন্তব্য