kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলায় তদন্তকারীকে জেরা অব্যাহত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডলের জেরা অব্যাহত রয়েছে। প্রধান আসামি নূর হোসেনের পক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার আইনজীবীরা জেরা শুরু করেছেন।

বিকেলে জেরা মুলতবি করে বিচারক আগামী ৩ অক্টোবর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম চলে। মাঝে এক ঘণ্টা বিরতি ছিল। সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার গ্রেপ্তারকৃত ২৩ আসামি এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জেরার তৃতীয় দিনে তদন্তকারীকে আসামি নূর হোসেন, তারেক সাঈদ ও এম এম রানার পক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন।

নূর হোসেনের পক্ষে তদন্তকারীকে জেরা শুরু করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সেক্রেটারি খোকন সাহা, যিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি। তিনি তদন্তকারীর কাছে জানতে চান, কাঁচপুরে শীতলক্ষ্যা সেতুর যে স্থান থেকে লাশ ট্রলারে ওঠানো হয়েছিল, তা নদীর উত্তর দিকে না দক্ষিণ দিকে? এ প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেননি তদন্তকারী। এজাহারের সূত্র ধরেও আইনজীবী বেশ কিছু প্রশ্ন করেন তদন্তকারীকে। একটি রাস্তার বিরোধসংক্রান্ত হানাহানির কথা এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, সে ক্ষেত্রে ওই মামলার সাক্ষী, রাস্তাসংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এমনকি সিটি করপোরেশনের মেয়রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হয়। জেরার সময় কাঠগড়ায় আসামি নূর হোসেনকে হাসিমুখে দেখা গেছে। চাকরিচ্যুত র‍্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ ও এম এম রানার পক্ষেও তদন্তকারীকে সকালে জেরা করেন আইনজীবীরা। আসামি তারেক সাঈদের পক্ষে গতকাল সকালে অসমাপ্ত জেরা শুরু করেন আইনজীবী শাহাবউদ্দিন। দুপুরে এম এম রানার পক্ষে জেরা করেন অ্যাডভোকেট ফরহাদ আব্বাস। দুপুরে বিরতির পর শুরু হয় প্রধান আসামি নূর হোসেনের পক্ষে জেরা। আদালতে জেরার সময় রাষ্ট্রপক্ষে পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, বাদীপক্ষে সাখাওয়াত হোসেন খানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডল বর্তমানে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক হিসেবে রয়েছেন যিনি সাত খুনের মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়ার সময় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। তাঁদের লাশ উদ্ধার হয় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে। এ ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার বিচারকালে অভিন্ন ১২৭ সাক্ষীর মধ্যে ১০৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জেরা শুরু হয়েছে।


মন্তব্য