kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি বহনে সওজের বাধা

আরিফুজ্জামান তুহিন   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি বহনে সওজের বাধা

সরকারের ২৭৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৭০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি তিন মাস ধরে পড়ে আছে গাইবান্ধার বালাসি ঘাটে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আপত্তির কারণে এগুলো দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প এলাকায় নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা এসব যন্ত্রপাতি কবে প্রকল্প এলাকায় নেওয়া সম্ভব হবে, সে বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত মিলছে না। এ অবস্থায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ পিছিয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বলছে, বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটের প্রায় ৭০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বালাসি ঘাট-গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী-মিঠাপুকুর হয়ে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া মহাসড়ক দিয়ে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর কথা। এসব যন্ত্রপাতি বহনে সড়ক ও সেতুর ক্ষতি হলে পিডিবি সেই ক্ষতিপূরণ দেবে। এ ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়ার পরও সড়ক ও সেতু ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সওজ বলছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি প্রকল্প এলাকায় নিতে হলে নিজেরা রাস্তা ও সেতু নির্মাণ করে নিতে পারে। আর বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, সেতু ও রাস্তা নির্মাণ করতে গেলে সময় অনেক লাগবে। এতে প্রকল্প ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজও অনেক পিছিয়ে যাবে।

জানা গেছে, গত জুলাই মাসে মংলা বন্দর থেকে নদীপথে গাইবান্ধার বালাসি ঘাটে এসে পৌঁছায় বড়পুকুরিয়া ২৭৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটের যন্ত্রপাতি। এসব ভারী যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে বয়লার ড্রাম ও জেনারেটর। বয়লার ড্রামটি রাখা হয়েছে বালাসি ঘাটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একটি অস্থায়ী জেটির ওপর খোলা আকাশের নিচে। এসব ভারী যন্ত্রপাতি বালাসি ঘাট-গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী-মিঠাপুকুর হয়ে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া মহাসড়ক দিয়ে প্রকল্প এলাকায় নেওয়ার কথা। কিন্তু সওজের দাবি, এসব ভারী যন্ত্রপাতি সড়কপথে নিতে গেলে সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সড়ক বিভাগের এমন আপত্তির মুখে এসব যন্ত্রপাতি আদৌ সেতুর কোনো ক্ষতি করবে কি না, তা যাচাইয়ে শহীদুল্লাহ অ্যাসোসিয়েটসকে দিয়ে একটি নিরীক্ষা করে পিডিবি। প্রতিষ্ঠানটির নিরীক্ষায় বলায় হয়, এসব যন্ত্রপাতি বহনে সড়ক সেতুর কোনো ক্ষতি হবে না।

পিডিবির পক্ষ থেকে প্রকল্প পরিচালক চৌধুরী নুরুজ্জামান গত ১০ আগস্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীকে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যমান সড়ক-মহাসড়ক ও সেতুর ওপর দিয়ে ভারী ও বিশালাকার যন্ত্রপাতি পরিবহনের জন্য বিশ্বব্যাপী হাইড্রোলিক মডুলার ট্রেইলার (এইচএমটি) ও সেলফ প্রপেল্ড মডুলার ট্রেইলার ব্যবহার হয়ে থাকে। আমাদের ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১৬ এক্সেল লাইনের মডুলার ট্রেইলার ব্যবহার করবে, যার মোট চাকার সংখ্যা ১২৮টি। এর ফলে প্রতিটি এক্সেল-লাইনে লোড হবে ১৫.৭৩ টন। ১২৮ চাকার ট্রেইলার হওয়ায় সেতু ও রাস্তার ওপর চাপ ছড়িয়ে পড়বে। এতে সেতু ও রাস্তার কোনো ক্ষতি হবে না। শহীদুল্লাহ অ্যাসোসিয়েটসও এমন মত দিয়েছে। এই লোড সওজের বিদ্যমান লোডের মানের চেয়ে ১.৭২ শতাংশ কম।

গত আগস্টে লেখা ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, এক মাস আগেই ড্রাম ও জেনারেটর বালাসি ঘাটে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু এ জটিলতার কারণে মালামাল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। সঠিক সময়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে না পারলে ও মালামাল প্রকল্প এলাকায় পরিবহন করতে না পারলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে পিডিবি।

তবে পিডিবি ও শহীদুল্লাহ অ্যাসোসিয়েটসের এমন বক্তব্য মানতে নারাজ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। তাদের যুক্তি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সড়ক ও সেতুর লোড নির্ধারণ করা হয়নি। গত ৪ সেপ্টেম্বর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান স্বাক্ষরিত এক জবাবি পত্রে পিডিবিকে জানানো হয়, সওজ সেতু ইউনিট কর্তৃক সংশ্লিষ্ট সড়কাংশে আলাই নদী সেতুসহ কয়েকটি সেতুর ওপর প্রস্তাবিত ট্রেইলারের লোড তুলনামূলক বিশ্লেষণ থেকে দেখা গেছে যে এ সেতু ছাড়াও আরো কিছু সেতুর ওপর দিয়ে এসব যন্ত্রপাতি বহন করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে প্রস্তাবিত সড়ক দিয়ে এসব যন্ত্রপাতি পরিবহন করা উচিত হবে না।

এর আগের চিঠিতে সওজের পক্ষ থেকে পিডিবিকে বলা হয়েছিল, সওজের সড়ক ও সেতু ব্যবহার না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সাময়িক রাস্তা ও সেতু নির্মাণ করে সেখান দিয়ে এসব যন্ত্রপাতি পরিবহন করতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাস গাইবান্ধার বালাসি ঘাটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটর ও বয়লার ড্রামটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পড়ে আছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে কম করে হলেও ছয় মাস পিছিয়ে গেছে। এসব যন্ত্রপাতি প্রকল্প এলাকায় নিতে আরো দেরি হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।


মন্তব্য