kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বড়লেখায় ইউপি সদস্য খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বড়লেখায় ইউপি সদস্য খুন

আবুল হোসেন

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় আবুল হোসেন ওরফে আলম মেম্বার (৩৭) নামের একজন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মোটরসাইকেল থামিয়ে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়।

পূর্ববিরোধের জেরে কাজল আহমদ নামের এক ব্যক্তি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

সূত্র জানায়, আবুল হোসেন আলম বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। তিনি আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর বাড়ি উত্তর শাহবাজপুরের সায়পুর গ্রামে। খুনের ঘটনা জানাজানির পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত কাজল আহমদের দোকান ও বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ কাজল আহমদের ছেলে সাদিক আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। অন্যদিকে আলম মেম্বারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আবুল হোসেন আলম গতকাল সকালে একটি জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য বের হন। সকাল পৌনে ১১টার দিকে তিনি আরেক ইউপি সদস্য মাসুক আহমদের মোটরসাইকেলের পেছনে চেপে কুমারশাইল গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সায়পুর নামক স্থানে কাজল আহমদ (৪৭) ঢিল ছুড়ে মোটরসাইকেলটি আটকায়। এরপর ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে আবুল হোসেনকে। স্থানীয়রা এগিয়ে আসা শুরু করলে কাজল পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আবুল হোসেনকে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টাকালে তিনি মারা যান।

পুলিশ বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে আবুল হোসেন আলমের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সদালাপী আলম মেম্বারের খুনের সংবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। উত্তেজিত লোকজন সায়পুর গ্রামে গিয়ে অভিযুক্ত কাজল আহমদের বাড়ি ও দোকানঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংবাদ পেয়ে দুপুরেই বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, পৌর মেয়র আবুল ইমাম কামরান চৌধুরী, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সুয়েব আহমদসহ রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেন।

বড়লেখা থানার ওসি শাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

ঘটনার সময় উপস্থিত ইউপি সদস্য মাসুক আহমদ জানান, আবুল হোসেনকে নিয়ে একজনের জানাজায় যাচ্ছিলেন। কাজলের মুদি দোকানের সামনে পৌঁছাতেই হামলা করা হয়। কাজল ছাড়া আর কেউ এ সময় উপস্থিত ছিল কি না বোঝা যায়নি।

সপ্তাহখানেক আগে আলম মেম্বারের আত্মীয়রা কাজলকে শাহবাজপুর বাজারে মারধর করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ খুন সেই মারধরের প্রতিশোধ হতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


মন্তব্য