kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কর্মশালায় পূর্তমন্ত্রী

বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন করা হবে এ বছরই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন করা হবে এ বছরই

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, হালনাগাদ করা বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) বা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুমোদন করা হবে ২০১৬ সালের মধ্যেই। বর্তমানে এটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে রয়েছে।

তিনি বলেছেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় থেকে আমরা উদ্যোগ নিয়ে তা এনে দ্রুততার সঙ্গে গেজেট করে বাস্তবায়ন করা হবে। রাজধানীসহ সারা দেশে বিএনবিসি বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করবে। আমরা চাই দেশের গ্রামীণ পর্যায়ে যেসব ভবন নির্মাণ হচ্ছে তাও সঠিকভাবে হোক। ’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথি মন্ত্রী এসব কথা বলেন। হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই) এ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালা আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছে ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড রেসপন্স ইনিশিয়েটিভ (নারী)।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিল্ডিং কোড কারিগরি একটি বিষয়। সাধারণ মানুষের পক্ষে এটি সহজবোধ্য নয়। তাই বিল্ডিং কোড বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে এর প্রধান বিষয়গুলো নিয়ে একটি ছোট পরিসরে করতে হবে। ভবনের দীর্ঘ স্থায়িত্ব অর্জন এবং ঝুঁকি হ্রাসের জন্য নির্মাণকালে বিল্ডিং কোড অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। দেশব্যাপী এর বাস্তবায়নের বিষয়ে যে জটিলতা রয়েছে তার নিরসন করা হবে। তিনি বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের জেলা পর্যায় পর্যন্ত অবকাঠামো রয়েছে। সেখানে ভবন দেখভালের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন প্রকৌশলী নেই। সেখানে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে এ দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তবে যেকোনো ভবন বা আবাসন গড়ে তোলার সময় কৃষিজমি রক্ষার দিকে নজর দিতে হবে।

সময়ের প্রয়োজনে রাজমিস্ত্রিদেরও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন মন্ত্রী।

সভাপতির বক্তব্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, ‘আমাদের দেশের জন্য বিল্ডিং কোড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটি আইনে রূপান্তর না হওয়া দুঃখজনক। বিএনবিসি বাস্তবায়নে আমরা কাজ শুরু করেছি। আশা করছি এ বছরের মধ্যে গেজেট করে বাস্তবায়নে যেতে পারব। ’ বিএমবিসি সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন পূর্তসচিব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, বিএনবিসি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। ১৯৯৩ সালে বিএনবিসি প্রণয়ন হলেও তা আইনে পরিণত হয় ২০০৬ সালে। এরপর প্রায় ১০ বছর পার হলেও এ আইন আর বাস্তবায়ন হয়নি। রাজধানীতে রাজউক ও সিটি করপোরেশনের এ আইন বাস্তবায়নে যথেষ্ট জনবল নেই। তাই এলাকাভিত্তিক পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে তদারকির কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘ভবন করার সময় নকশা করেছে এমন প্রকৌশলীর নাম দিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রকৌশলীর পক্ষে যে সনদ নম্বর দেওয়া থাকে তা সঠিক নয়। তাই এ কাজে স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল পদ্ধতি অবলম্বন করে কাজ করতে হবে। ’

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মাকসুদ হেলালী বলেন, ‘ফায়ার সিস্টেমের ব্যাপারে আমাদের দেশ উদাসীন। ফলে দীর্ঘ সময় পরে একটি আইন বিএনবিসি বাস্তবায়ন হলেও সেখানে ফায়ার সিস্টেম উপেক্ষিত হচ্ছে। বিজিএমই থেকে সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে এ আইনে ফায়ারের বিষয়টি ভালোভাবে যুক্ত করতে। ’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান প্রকৌশলী মো. নূরুল্লাহ বলেন, ‘এত আগের আইন কেন দীর্ঘ সময়েও বলবত হলো না তা খতিয়ে দেখা দরকার। এ ছাড়া বিএনবিসি সিটি করপোরেশন ও উপজেলা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই সরকারের অন্য সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। ’

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য দেন অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, বুয়েটের অধ্যাপক ড. জয়নাল আবেদিন, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কামরুল হাসান।


মন্তব্য