kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘গরুপাচার রোধ করা গেলে সীমান্তে হত্যা বন্ধ হবে’

ওমর ফারুক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘গরুপাচার রোধ করা গেলে সীমান্তে হত্যা বন্ধ হবে’

কুড়িগ্রামের রৌমারীর বাহাউদ্দিন ও জাকির গত রবিবার ভোরে গরু আনতে সীমান্তের দাঁতভাঙা-ছাটকাড়াইবাড়ী এলাকায় যান। তাঁদের দেখে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ গুলি চালায়।

বাহাউদ্দিন ঘটনাস্থলেই মারা যান। জাকির আহত হন।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে ঝিনাইদহের মহেশপুরের সীমান্তবর্তী বাঘাডাঙ্গায় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন গরু ব্যবসায়ী জসিম মণ্ডল। ওই দিন ভোর ৫টার দিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন দুখু মিয়া নামের এক গরু ব্যবসায়ী।

গত ২২ জুলাই রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন আবুল কালাম আজাদ নামের এক বাংলাদেশি। তিনিও গরু ব্যবসায়ী বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর গত জুলাই থেকে সীমান্তে হত্যা বেড়েছে। ফলে নতুন করে সীমান্তে হত্যার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আগামীকাল নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিজিবি ও পুলিশের কর্মকর্তারা মনে করেন, গরুপাচারের কারণেই সীমান্তে হত্যার ঘটনা ঘটছে। গরুপাচার রোধে দুই দেশই তৎপরতা বাড়াতে যাচ্ছে।

আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক হবে। সেখানে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। বৈঠকের উদ্দেশ্যে আজ বিজিবির প্রতিনিধিদল ভারতে যাচ্ছে।

সীমান্ত দিয়ে গরুপাচার ঠেকাতে পুলিশও তৎপর হয়েছে। গরু আনতে বাংলাদেশের কেউ যেন সীমান্ত অতিক্রম না করে সে জন্য মাঠে নেমেছে তারা। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকায় গরু-ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করছে তারা।

বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু আনার সঙ্গে সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সম্পর্ক আছে। গরু ব্যবসায়ীরা যদি রাতের বেলায় সীমান্তে না যায় তা হলে হত্যাকাণ্ড কমে যাবে। গরু আনতে বাংলাদেশের কেউ যেন সীমান্ত অতিক্রম না করে সেটা বার বার বলছি আমরা। ’ তিনি বলেন, দিল্লির বৈঠকে সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয়ে কথা হবে।

আরেক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় ভারতীয়দের গরু নিয়ে আসা ঠেকানোর জন্য চাপ দেওয়া হবে ভারতীয় পক্ষকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান বলেন, ‘সীমান্ত হত্যার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিবাদের ভাষাটা দুর্বল বলে মনে হয়। প্রতিবাদের ভাষাটা শক্ত হতে হবে। ’ তিনি বলেন, ‘গরু আনাই যদি হত্যাকাণ্ডের কারণ হয় তাহলে ভারতকেও তো প্রশ্ন করতে হবে—তারা কেন গরু নিয়ে আসে। বাংলাদেশে পাচারের জন্য গরু নিয়ে আসা কি অপরাধ নয়? বিএসএফ বারবার বলছে, তারা সীমান্তে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করবে। কিন্তু তার প্রমাণ কোথায়? আন্তরিকতা থাকলে হত্যা বন্ধ করা যায়। ’

সূত্র জানায়, গরুসংশ্লিষ্ট কারণেই সীমান্তে হত্যার ঘটনা ঘটছে। ভারতের লোকজন গরু নিয়ে সীমান্তে আসে। কিন্তু এপারে দিয়ে যায় না। বাংলাদেশি রাখালরা রাতের বেলায়, অনেক ক্ষেত্রে কাঁটাতারের বেড়া কেটে, গরু আনতে যায়। তখন গুলির ঘটনা ঘটে, মৃত্যুও হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ভারত থেকে গরু আনা বন্ধ করে দিলেই সীমান্ত হত্যাকাণ্ড রোধ করা যাবে। বিজিবি-বিএসএফের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী। তাদের কাটালে বেতনভুক্ত রাখাল রয়েছে, যারা গরু আনতে যায়। তারাই জীবন দেয়। পর্দার আড়ালের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হলে সীমান্তে হত্যা সমস্যার সমাধান হবে।


মন্তব্য