kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাওরে শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রপতি

যাতে চাকরিতে তদবির না লাগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



যাতে চাকরিতে তদবির না লাগে

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গতকাল কিশোরগঞ্জ মিঠামইন বাজারের কাঠমহল এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বলেছেন, ‘কেবল পরীক্ষায় পাস করা নয়, মানসম্মত শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জন করে হাওর তথা দেশের উন্নয়নে তোমাদের কাজ করে যেতে হবে। তদবির ছাড়াই যেন চাকরি হয়, সেভাবে তোমাদের লেখাপড়া করতে হবে।

’ শিক্ষকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুণগত মানের দিকে আপনারা খেয়াল রাখুন। ’

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিঠামইন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক কলেজের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রপতির ছেলে ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক এমপি।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘একটা সময় ছিল, যখন হাওর এলাকায় কোনো উচ্চশিক্ষিত মানুষ পাওয়া যেত না। পুরো হাওরে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে অনেক পাল্টে গেছে হাওর এলাকা। এখন প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়েছে। ’ তিনি বলেন, শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামে আর্থসামাজিক ও অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হয়েছে। ঘরে ঘরে উচ্চশিক্ষিত লোকজন পাওয়া যায়। ১৯৬৭ সালের দিকে কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজের ভিপি থাকাকালে মিঠামইনে হাই স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর নেতৃত্বে ৪২ মণ ধান সংগ্রহ করার স্মৃতিচারণা করেন তিনি। এ সময় মন্তব্য করে বলেন, শিক্ষার দিক থেকে ভবিষ্যতে এ হাওর এলাকা আরো এগিয়ে যাবে।

হাওর এলাকার কৃষকদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, নানা দিক থেকে হাওরাঞ্চল ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলেও এখানকার কৃষকের অবস্থা ভালো না। এখানে বছরে মাত্র একটি ফসল হয়। কিন্তু এ ফসলটিও পুরোপুরি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। প্রায় প্রতিবছরই অকাল বন্যাসহ নানা কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি হাওরের কৃষকদের বিশেষ ভর্তুকি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর আবুল হোসেন, জার্মান আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম রতন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিন এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনসহ আওয়ামী লীগের জেলা ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে স্থানীয় হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন রাষ্ট্রপতি। পরে সেখানে থেকে রিকশায় চড়ে মিঠামইন উপজেলা সদরের ডাকবাংলোয় পৌঁছালে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর থানার ঘাটে নবনির্মিত ৫০০ আসনবিশিষ্ট রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অডিটরিয়াম-কাম-কমিউনিটি সেন্টার পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি নির্মাণাধীন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। এ ছাড়া তিনি লঞ্চঘাটসহ মিঠামইন বাজারের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ঘুরে দেখেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বাজারে একটি সেতু নির্মাণের বিষয়ে কথা বলেন। পরে বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক কলেজের রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

আজ শুক্রবার মিঠামইনের কামালপুর গ্রামে স্মৃতিবিজড়িত নিজ বাড়িতে অবস্থান করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আগামীকাল সকাল ১১টায় তিনি ঢাকায় ফিরবেন বলে জানা গেছে।


মন্তব্য