kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সুধারামের চার রাজাকারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য

এক দিনে দুই গ্রামের শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এক দিনে দুই গ্রামের শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়

মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার আমীর আলী, মো. ইউসুফ, মো. জয়নাল আবেদিন ও এ কে এম মনসুরের সহায়তায় পাকিস্তানি সেনারা নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার শ্রীপুর ও সোনাপুর গ্রামের শতাধিক ব্যক্তিকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে।

গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী মো. সামসুদ্দীন এ সাক্ষ্য দেন।

নোয়াখালীর এই চার রাজাকারের নারকীয় কর্মকাণ্ডের বিবরণ দেন তিনি। সাক্ষী বলেন, তাদের সহায়তায় একাত্তরের ১৫ জুন ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায় পাকিস্তানি সেনারা।

বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দি দিতে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম। গতকাল তাঁর জবানবন্দি শেষ হয়েছে। আজ তাঁকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

সাক্ষী বলেন, ‘একাত্তরের ১৫ জুন রাজাকার কমান্ডার হুমায়নসহ পাঁচ-ছয়জন রাজাকার ও সাত-আটজন পাকি সোনাপুর গ্রামে সাবেক সেনা সদস্য আবদুল কাদের ও তাঁর এক ভাইকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর আবুল খায়েরের বাড়িতে গিয়ে আবুল খায়েরসহ তিন-চারজনকে গুলি করে হত্যা করে। আমি এসব ঘটনা একটি ঝোপের আড়াল থেকে দেখি। এরপর রাজাকার ও পাকিস্তানি সেনারা সোনাপুর গ্রামের পূর্ব দিকে যেতে থাকে। সে সময় তারা সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই গুলি করে হত্যা করেছে। সামনে যেসব বাড়ি পেয়েছে সেগুলোকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি লুকানো অবস্থায় আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়েছি। গুলি ও মানুষের কান্নার শব্দ শুনেছি। ’ তিনি বলেন, শ্রীপুর গ্রামেও তারা অভিযান চালিয়ে মুক্তিকামী সাধারণ মানুষকে হত্যা করে।

সামসুদ্দীন বলেন, ‘ওই দিন সন্ধ্যার আগে শ্রীপুর ও সোনাপুর গ্রামে অভিযান শেষ করে চলে যায় পাকিস্তানি সেনারা। তারা চলে যাওয়ার পর আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, রাজাকার ও পাকিস্তানি সেনারা দুই গ্রামের শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে এবং অসংখ্য বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। রাজাকাররা হলো আমীর আহম্মেদ ওরফে আমীর আলী, মো. ইউসুফ, মো. জয়নাল আবেদিন ও এ কে এম মনসুর। ’

সাক্ষী মো. সামসুদ্দীনর বাড়ি সুধারাম উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তিনি; রণাঙ্গনে পাক হানাদারদের মোকাবিলা করেছেন।

গত ৭ আগস্ট এই চার রাজাকারের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তিন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। এ কে এম মনসুর পলাতক রয়েছে।


মন্তব্য