kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এনায়েতপুর

বৃদ্ধার টাকার বস্তা নিয়ে পুলিশের গলদঘর্ম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বৃদ্ধার টাকার বস্তা নিয়ে পুলিশের গলদঘর্ম

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে টাকার বস্তা ফেলে যাওয়া বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে থানায় এনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস। ইনসেটে গোনা হচ্ছে বৃদ্ধার জমানো টাকা। ছবি : কালের কণ্ঠ

একটি বস্তা থেকে ৩৮ হাজার ৬৮০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। প্রথম দিকে টাকার মালিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিন্তু মানসিকভাবে অসুস্থ বৃদ্ধার হাতে টাকা তুলে দেওয়া অনুচিত ভেবে তাঁর নিকটাত্মীয় খোঁজা হয়েছে। তা না পেয়ে এতগুলো টাকা কার হাতে তুলে দেবে এ নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানা পুলিশ।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, এনায়েতপুর হাটের আমতলা মোড়ে জোচনের চায়ের দোকানের কোনায় আবর্জনা মাখা বস্তা নিয়ে মাঝেমধ্যে অবস্থান করতেন সাদা ট্রাউজার ও গায়ে সোয়েটার পড়া কম্বল জড়ানো এক বৃদ্ধা। সঙ্গে থাকত ময়লামাখা একটি বস্তা। এ নিয়ে তিনি এনায়েতপুর হাট, কেজির মোড়সহ আশপাশ এলাকায় বিচরণ করতেন। গত রবিবার বিকেলে হঠাৎ বৃদ্ধা বস্তাটি জোচনের চায়ের দোকানের কোনায় রেখে বের হন। দোকানদার কৌতূহলবশত মুখবাঁধা বস্তাটি খুলে অনেক টাকা দেখেন। তখন তা দেখতে কিছু লোক ভিড় করে। পাশে থাকা এনায়েতপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান বস্তাটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। থানা চত্ব্বরে বস্তাটি খোলা হয়। শতাধিক পলিথিনে জড়ানো টাকাপয়সা মাটিতে ঢালা হয়। এ খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। টাকার বস্তা দেখার জন্য থানা গেটে শত শত মানুষ ভিড় জমায়। তখন থানার প্রধান ফটক আটকালেও বেগ পেতে হয় পুলিশ সদস্যদেরকে। হাটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমীর হামজা সরকার, আব্দুল আওয়াল শেখ, জোচন আলী, মজিবর রহমান, আব্দুল আজিদসহ ১১ জন মিলে টাকা গোনা শুরু করেন। এক ও পাঁচ টাকার পয়সা এবং দুই, পাঁচ, ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোট বিকেল ৫টা থেকে গুনে রাত ৮টা নাগাদ শেষ করা হয়।

বস্তা উদ্ধারের পর থেকে বৃদ্ধাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাঁর হদিস পায়নি। গতকাল সকালে তিনি এনায়েতপুর মণ্ডলপাড়ায় এলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় বৃদ্ধাকে দেখার জন্য ভিড় করে শত শত মানুষ। কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেও তাঁর কোনো ঠিকানা জানতে পারেনি পুলিশ। বিকারগ্রস্ত হওয়ায় কথাবার্তাও ছিল অপ্রাসঙ্গিক। টাকা দেওয়ার কথা বললেও না নিয়ে পুলিশকে বকাবকি করে থানা থেকে বের হয়ে যান তিনি।

এনায়েতপুর থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, ‘টাকা উদ্ধারের পর থেকে ওই নারীকে খোঁজা হচ্ছিল। তাঁকে পেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। শুধু এলোমেলো বকাবকি করেছেন। টাকাগুলো নিয়ে বিপাকে পড়েছি। ’

 


মন্তব্য