kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মালয়েশিয়ায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা

মৃত্যুর আগ মুহূর্তে ওসির ফোন নম্বর চেয়েছিলেন তিনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মৃত্যুর আগ মুহূর্তে ওসির ফোন নম্বর চেয়েছিলেন তিনি

মালয়েশিয়ায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা সৈয়দ আব্দুল মণ্ডলের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার রাতুগ্রামে চলছে মাতম। মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় বুক ভাসাচ্ছেন তাঁর মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা।

খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পুরো রাতুগ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। সান্ত্বনা জানাতে ছুটে যায় গ্রামবাসী ও আত্মীয়স্বজন।

নিহত সৈয়দ আব্দুল মণ্ডলের বাবা আব্দুল কাদের জানান, মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে তাঁর ছেলে রাজশাহীর দুর্গাপুর থানার ওসি ও স্থানীয় একজন আইনজীবীর ফোন নম্বর জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে ফোন নম্বর সংগ্রহ করলেও ছেলেকে তা আর দিতে পারেননি বাবা। এর পর থেকেই ছেলের ফোনটি বন্ধ পান বাবা। তিনি ছেলেকে হত্যার বিচার দাবি করেছেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে (স্থানীয় সময় রাত ১২টায়) মালয়েশিয়ার লরং পানতাই কেলানাং সমুদ্রসৈকত থেকে সৈয়দ আব্দুল মণ্ডলের পোড়া লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা এ খবর জানতে পারে গত সোমবার বিকেলে। মালয়েশিয়ায় বসবাস করেন নিহত আব্দুল মণ্ডলের শ্যালক আব্দুর রাজ্জাকও। তিনিই সোমবার বিকেলে ফোন করে তাঁর ভগ্নিপতির মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে পরিবারের সদস্যদের জানান।

রাজ্জাক ফোনে পরিবারের সদস্যদের বলেন, সোমবার সকালে তিনি তাঁর দুলাভাই সৈয়দ আব্দুল মণ্ডলকে জরুরি কাজে ফোন করেন। তখন তাঁর ফোনটি বন্ধ পান তিনি। পরে বাসায় গিয়ে তিনি দেখতে পান তাঁর দুলাভাইয়ের পোড়া লাশ পুলিশ ঘিরে রেখেছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সৈয়দ আব্দুল মণ্ডল ২০১০ সালে কাজের সন্ধানে মালয়েশিয়ায় যান। এর পর থেকে তিনি সেখানে একটি মুদি দোকানে চাকরি করতেন। তবে সমপ্রতি তিনি নিজেই একটি মুদি দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেন।  

সৈয়দ মণ্ডলের বাবা আব্দুল কাদের জানান, হত্যাকাণ্ডের দিন রবিবার রাত ৯টার কিছুক্ষণ আগে তাঁর ছেলে তাঁকে ফোন করেছিলেন। ওই সময় তাঁকে খুব চিন্তিত মনে হচ্ছিল। চিন্তিত মন নিয়ে ছেলে দুর্গাপুর থানার ওসি ও স্থানীয় একজন আইনজীবীর মোবাইল ফোন নম্বর দিতে বলেন বাবাকে। মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করার কিছুক্ষণ পর ছেলেকে ফোন করেন আব্দুল কাদের। কিন্তু ছেলের ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন আব্দুল কাদের। পরদিন সোমবার বিকেলে আব্দুর রাজ্জাক ফোন করে জানান, আব্দুল মণ্ডল খুন হয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সৈয়দ আব্দুল মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে বসে ছেলের জন্য বিলাপ করছেন বৃদ্ধা মা সইজান বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে কেন মারা হলো? সে তো কোনো অন্যায় করেনি। তাকে কারা মারল। কী অপরাধ করেছিল আমার ছেলে, যে তাকে এভাবে হত্যা করা হলো?’

স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন সৈয়দ আব্দুল মণ্ডলের স্ত্রী আছমা বেগম। তিনি কথাও বলতে পারছিলেন না। মাঝেমধ্যে কাছের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করছিলেন, ‘আমার স্বামী কোথায়? সে কি আর আসবে না? আমার দুই সন্তানকে কে দেখবে এখন?’


মন্তব্য