kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পদ্মা সেতু রেল সংযোগ

চীনা প্রেসিডেন্টের সফরে ঋণচুক্তিতে অগ্রগতির আশা

খসড়া চীনা দূতাবাসে

পার্থ সারথি দাস   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পদ্মা সেতু হয়ে ১৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-যশোর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় অঙ্কের অর্থ জোগাবে চীন। রেলপথ নির্মাণও করবে চীনা প্রতিষ্ঠান।

আগামী মাসে দেশটির প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় সংশ্লিষ্ট ঋণ চুক্তির বিষয়ে বড় অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ৮ আগস্ট চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের সঙ্গে নির্মাণ চুক্তি হয়েছে। দ্রুত ঋণ চুক্তি সইয়ের আশা করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

ওই মাসের শেষ সপ্তাহে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণ চুক্তির খসড়া বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হয়েছে। ইআরডি সেটি ঢাকায় চীনা দূতাবাসে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, এ প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ হাজার ২৩৯ দশমিক ৮১ কোটি টাকার সংস্থান করা হবে। আর চীন সরকার দেবে ২৪ হাজার ৭৪৯ দশমিক ০৫ কোটি টাকা। ২০২২ সালের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

আগামী ১৪ ও ১৫ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বাংলাদেশ সফর করবেন। সে সময় এ প্রকল্পের ঋণ চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

প্রকল্প পরিচালক সুকুমার ভৌমিক বলেন, রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের অন্য সব প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

মূল পদ্মা সেতু ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ৩৮ শতাংশ। মূল সেতু চালুর দিনেই ট্রেন চালনা শুরু করতে চায় সরকার। এ জন্য রেলপথের ঢাকা-ভাঙ্গা অংশের কাজ শেষ করতে হবে মূল সেতুর কাজ শেষ করার সঙ্গে। ফলে চীনের সঙ্গে ঋণ চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন হওয়া দরকার।

ঢাকা-গেণ্ডারিয়া, গেণ্ডারিয়া-মাওয়া, মাওয়া-ভাঙ্গা ও ভাঙ্গা-যশোর, এ চার ধাপে রেলপথটি নির্মাণ করা হবে। ঢাকা-ভাঙ্গা অংশ প্রথম ধাপে চালু করা হবে। চলতি বাজেটে এ প্রকল্পের জন্য চার হাজার ১০২ দশমিক ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

দ্রুততম সময়ে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে—এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের সময় এ বিষয়ে বড় অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। রেলস্টেশনের জন্য প্রথম ধাপে কেরানীগঞ্জ, নিমতলা, মাওয়া, জাজিরা, শিবচর ও ভাঙ্গায় জমি অধিগ্রহণ করা হবে। রেল প্রকল্পের জন্য প্রায় এক হাজার ৯০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে।


মন্তব্য