kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শাহজালালে ৯ পিস্তলসহ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই জার্মান আটক

খেলনা দাবি করলেও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টি পিস্তলসহ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জার্মানির দুই নাগরিক আটক হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে এসব অস্ত্রসহ আটক দুই ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ মনির বেন আলী ও আনিসুল তালুকদার।

তাঁদের দাবি, এগুলো খেলনা পিস্তল। তবে অস্ত্রগুলো খেলনা না আসল তা গতকাল পর্যন্ত কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে পারেনি।

কাস্টমস ও র‍্যাব সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (ইকে-৫৮২) শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটের যাত্রী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই জার্মান মোহাম্মদ মনির বেন আলী ও আনিসুল তালুকদার গ্রিন চ্যানেল এলাকায় আসার পর কাস্টমস কর্মকর্তারা তাঁদের আটক করেন। খবর পেয়ে র‍্যাব ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। আটক দুজনের সঙ্গে থাকা ল্যাগেজ স্ক্যানিং মেশিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়, লাগেজের ভেতর আগ্নেয়াস্ত্রসদৃশ বস্তু ও মদের বোতল রয়েছে। তাঁদের কাস্টম হাউসের সামনে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁদের লাগেজ থেকে ৯টি পিস্তল ও ১২ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

দুপুর ২টা ২২ মিনিটে র‍্যাব গণমাধ্যমে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বলে, কাস্টমস ও র‍্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে বিকেলে প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে। বিকেল ৪টার দিকে গণমাধ্যমের কর্মীরা হাজির হন বিমানবন্দরের কাস্টমস হলে। কিন্তু প্রেস ব্রিফিং নিয়ে সময়ক্ষেপণ চলতে থাকে। একপর্যায়ে কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তার নাম-স্বাক্ষর ছাড়াই সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করা হয় একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। পরে বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার এস এম সোহেল রহমান স্বাক্ষরিত আরেকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সাংবাদিকদের দেওয়া হয়। দুটি বিজ্ঞপ্তিতেই বলা হয়, আটক দুই ব্যক্তির লাগেজ খুলে দেখা যায় তাতে জার্মানির ওয়ালথার ব্র্যান্ডের চারটি ও তুরস্কের কোরাকি ব্র্যান্ডের পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্রসদৃশ বস্তু এবং ১২টি মদের বোতল রয়েছে। এগুলো বহনের সপক্ষে তাঁরা কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারেনি। তাই সেগুলো জব্দ করা হয়। আটক বস্তুগুলো সম্পর্কে অধিকতর নিশ্চিতকল্পে বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হবে।

আটক মনির বেন আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ করেনি। জার্মান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই খেলনা পিস্তলগুলো আনা হয়েছে। ওই দেশে প্রতিটি পিস্তল ১২০ ইউরো দরে কেনা হয়েছে। বাংলাদেশে একেকটি পিস্তলের দাম ১৫০ ইউরো। জার্মানির মিউনিখ বিমানবন্দরে আসার পর কর্তৃপক্ষ খেলনা পিস্তলগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করে। পরে তারা শাহজালাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বাংলাদেশ অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়ে ওরা আমাদের জানিয়ে দেয়, তোমাদের দেশে এগুলো নিলে কোনো সমস্যা হবে না। পুরো শুল্ক দিয়ে নিয়ে যেতে পারো। তাদের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা পিস্তল ও মদের বোতলগুলো নিয়ে আসি। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইমরান নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে এগুলো বিক্রি করার কথা ছিল। ওই ব্যবসায়ীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বায়তুল মোকাররম এলাকায়। আর প্রায় সময় ইমরান জার্মানিতে গিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করেন। ’

কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার এস এম সোহেল রহমান বলেন, ‘আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমরা নিশ্চিত হতে পারব যে এগুলো আসল না খেলনা পিস্তল। তার পরও আটক দুজনকে আমাদের হেফাজতে রাখা হবে। ’

এ প্রসঙ্গে র‍্যাবের কোনো কর্মকর্তা প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি। তবে এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে এগুলো আসল পিস্তল। খেলনা পিস্তলের ওজন এতটা হওয়ার কথা নয়। ’


মন্তব্য