kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুর্বল নেটওয়ার্ক

বিটিসিএল-সিটিসেল ছেড়ে গ্রামীণে আগ্রহ বিটিআরসির

কাজী হাফিজ   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিটিসিএল-সিটিসেল ছেড়ে গ্রামীণে আগ্রহ বিটিআরসির

সরকারি টেলিযোগাযোগ কম্পানি বিটিসিএল ও বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা মোবাইল অপারেটর সিটিসেলের দুর্বল ডাটা কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক নিয়ে বিপাকে রয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির রেডিও স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা। এ দুই অপারেটরের নেটওয়ার্ক গত সাত বছর ধরে ব্যবহার করে আসছে বিটিআরসির স্পেকট্রাম পর্যবেক্ষণ শাখা।

কিন্তু অভিজ্ঞতা হতাশাজনক।

ঢাকার বাইরে থাকা পাঁচটি ফিক্সড মনিটরিং স্টেশনে বিটিসিএলের ডিডিএন (৬৪ কেবিপিএস) সংযোগ কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রায়ই বন্ধ থাকায় ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি তা বাতিল করা হয়। এখন বিটিসিএলের নেটওয়ার্কে যুক্ত রয়েছে ঢাকার কেন্দ্রীয় মনিটরিংয়ের পাঁচটি মোবাইল মনিটরিং স্টেশন (গাড়ি)। আর সিটিসেলের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের সিডিএমএ জুম মডেলের মাধ্যমে। কিন্তু এই দুই নেটওয়ার্ক থেকেই ডাটা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গতি মিলছে না। সিটিসেলের দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক কভারেজও অনেক কম। ৮৭৩টির মতো টুজি বিটিএস দিয়ে সিটিসেল তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে সিটিসেল। এ অবস্থায় বিটিসিএল ও সিটিসেলের নেটওয়ার্ক সংযোগ বাতিল করে সেরা নেটওয়ার্ক বিবেচনায় গ্রামীণফোনের সংযোগ নিতে আগ্রহী বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

সম্প্রতি বিটিআরসি এ বিষয়ে থ্রিজি মোবাইল ফোন ও ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস (বিডাব্লিউএ) বা ওয়াইম্যাক্স অপারেটরদের কাছ থেকে কারিগরি প্রস্তাব আহ্বান করে। এতে সাড়া দিয়ে প্রস্তাব পাঠায় গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, এয়ারটেল, টেলিটক ও অজরি ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড বাংলাদেশ (কিউবি)। এর মধ্যে বিটিআরসি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করছে গ্রামীণফোনের প্রস্তাবকে। টেলিটকের প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্যতার দ্বিতীয় স্থানে রাখা হলেও সরকারি এই অপরাটের সম্পর্কে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মূল্যায়ন, ‘এই অপারেটর সবচেয়ে কম মূল্যে নেটওয়ার্ক সংযোগ দিতে চাইলেও এর দেশব্যাপী থ্রিজি নেটওয়ার্ক কভারেজ সীমিত। মাত্র ১,৫৫৫টি থ্রিজি বিটিএস টাওয়ার দিয়ে ৬৪ জেলায় তাদের সেবা চালু রেখেছে। জেলা সদর ছাড়া অন্যান্য এলাকায় তাদের ত্রিজি সেবা পর্যাপ্তভাবে পৌঁছায়নি। কমিশনের স্পেকট্রাম মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনায় এ অপারেটরের প্রস্তাবিত সেবা উপযুক্ত নয়। ’

অন্যদিকে গ্রামীণফোন সম্পর্কে স্পেকট্রাম বিভাগের মূল্যায়ন, ‘গ্রামীণফোন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় থ্রিজি নেটওয়ার্ক কভারেজ এরিয়া পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ২৬টি থ্রিজিবিটিএস টাওয়ার দিয়ে দেশের ৬৪টি জেলা শহরসহ অন্যান্য এলাকায়ও উন্নতমানের টেলিযোগাযোগ সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের থ্রিজি সেবার জন্য ৭৯.৬৫ শতাংশ কভারেজ এরিয়া বিদ্যমান। সে ক্ষেত্রে বিটিআরসির স্পেকট্রাম মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গ্রামীণফোনের প্রস্তাবিত সেবা উপযুক্ত এবং মানসম্মত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ’

রবি, বাংলালিংক, এয়ারটেল ও কিউবি সম্পর্কে স্পেকট্রাম বিভাগের মূল্যায়ন, এসব প্রতিষ্ঠান বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের চাহিদামতো প্রস্তাব দেয়নি।


মন্তব্য