kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭

সেই বাড়ি আবার সরব

দিলীপ কুমার মণ্ডল, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সেই বাড়ি আবার সরব

মহানগরের পাইকপাড়ার জঙ্গি আস্তানা ঘিরে মানুষের মনে কৌতূহল এখনো রয়ে গেছে। গত ২৭ আগস্ট সেখানে ‘অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭’ নামের অভিযানে নব্য জেএমবির প্রধান সংগঠক তামিম চৌধুরীসহ তিন জঙ্গি নিহত হয়।

অভিযানের এক মাস পূর্ণ হয়েছে। বাড়িটি এখনো পুলিশি নজরদারিতে রয়েছে।

তিন তলা বাড়িটির নিচতলা ও দোতলা খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে তিন তলার ফ্ল্যাটটি এখনো তালাবদ্ধ। সেখানে জঙ্গিরা থাকত। অভিযানের পর প্রায় ১৫ দিন বাড়ির সব ফ্ল্যাট বন্ধ ছিল। তবে পাশের টিনশেডের বাসাগুলো খোলা ছিল। এসবের মালিক নূরউদ্দিন দেওয়ান। ওই বাড়ি ও পাশের ঘরগুলোতে ২৪টি পরিবার বাস করে।

বাড়িওয়ালা এখনো হাজতে আছেন। তাঁর মুক্তির ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তদন্ত চলছে। নিহত জঙ্গি তামিমের ডিএনএ টেস্টের ফলাফল পাওয়া গেলে সেই সূত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাইকপাড়ায় শাহ সুজা সড়কের ৪১০/১ হোল্ডিং নম্বরের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, মালিক ও ভাড়াটিয়াদের জন্য নিচতলা ও দোতলার ফ্ল্যাটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে তিন তলার ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ করে রেখেছে পুলিশ।

ভাড়াটিয়ারা জানায়, নিচতলা ও পাশের টিনশেডের সব ভাড়াটিয়া স্বাভাবিকভাবেই বাস করছে। মূল ভবনের দোতলায় এখনো ওঠেনি বাড়িওয়ালার পরিবার। তবে দুই দিন আগে সেখানে মিলাদ মাহফিল হয়েছে।

ভাড়াটিয়া হোসনে আরা জানান, বাড়িওয়ালার পরিবারের সদস্যরা এখনো তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে আছে। পুলিশ বাড়িটিতে অবস্থান না করলেও মাঝেমধ্যে এসে দেখে যায়।

ভাড়াটিয়া মো. সোলেমান জানান, অভিযানের দিন পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ করে রাতেই ছেড়ে দেয়। তিনি বলেন, অভিযানের পর ওই বাড়িতে পানি সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছিল। সরবরাহ এখনো ঠিক হয়নি। তাঁরা পানির কষ্টে ভুগছেন।

বাড়িওয়ালার বড় ছেলে কলেজ ছাত্র জান্নাতুল ইসহাক দেওয়ান নিপুণ বলেন, এখনো তাঁরা চাচার বাড়িতে বাস করছেন। নির্দোষ উল্লেখ করে তিনি বাবার মুক্তি দাবি করেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, বাড়িওয়ালা নূরউদ্দিন দেওয়ানের মুক্তির ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে।

পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, পুলিশ বাড়িটি ইতিমধ্যে খুলে দিয়েছে। তবে তিন তলার ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংরক্ষণের জন্যই তা করা হয়েছে।


মন্তব্য