kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শেখ হাসিনার ৭০তম জন্মদিন আড়ম্বরপূর্ণভাবে পালন করবেন সংস্কৃতিকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭০তম জন্মদিন আড়ম্বরপূর্ণভাবে পালন করবেন সংস্কৃতিকর্মীরা। তাঁরা মনে করছেন, শেখ হাসিনা শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রিয় সুহৃদ।

দেশজ দায়বদ্ধতায় উজ্জীবিত প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সেই কৃতজ্ঞতার জায়গা থেকেই তাঁর ৭০তম জন্মদিনটি পালন করা হবে আড়ম্বপূর্ণভাবে। এ জন্য জাতীয় বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের নিয়ে একটি উদ্‌যাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ৭০তম জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন কমিটি বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এতে জানানো হয়, ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে জন্মোৎসব পালনের আয়োজন করা হয়েছে। উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের লেখা উদ্বোধনী সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হবে। গানটি পরিবেশন করবেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য প্রদান করবেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও শেখ হাসিনার ৭০তম জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন কমিটির সদস্যসচিব গোলাম কুদ্দুছ। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে নিবেদিত শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) সম্মানিক সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্রের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

এই আয়োজনে অভিনয়ের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাবেন অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার ও শিমুল ইউসুফ। সংগীত পরিবেশন করবেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, মিতা হক, ফরিদা পারভীন, রথীন্দ্রনাথ রায়, খায়রুল আনম শাকিল ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বহ্নিশিখার শিল্পীরা। স্বরচিত কবিতা পাঠ করবেন নির্মলেন্দু গুণ, মুহাম্মদ সামাদ ও তারিক সুজাত। শেখ হাসিনার লেখা থেকে পাঠ করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আশরাফুল আলম, হাসান আরিফ, লায়লা আফরোজ ও আহকামউল্লাহ।

সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও শেখ হাসিনার ৭০তম জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন কমিটি সদস্যসচিব গোলাম কুদ্দুছ। বক্তব্য দেন রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, আতাউর রহমান, শিল্পী ফকির আলমগীর, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদ, সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাত, সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক বাচিক শিল্পী হাসান আরিফ, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল আক্তারুজ্জামান, সহসভাপতি ঝুনা চৌধুরী, আবৃত্তি সমন্বয়

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকামউল্লাহ, সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন সংস্কৃতিমান মানুষকে অভিবাদন জানানোর জন্যই এ আয়োজন। পিতার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে তিনি যেভাবে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এটা বিরল। তাঁর এ যাত্রাপথে আমাদের এই সামান্য নিবেদন মাত্র। ’

নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘জাতির জনককে হত্যার পর এক প্রতিকূল পরিবেশে উদ্বাস্তু জীবন থেকে ফিরে এসে তিনি আমাদের সাহস জুগিয়েছেন। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর দক্ষ পরিচালনার জন্যই দেশের সংস্কৃতিকর্মী তথা সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে কর্মস্পৃহা, উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। ’

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘পিতা-মাতা ও স্বজন হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে সব বাধাবিঘ্ন, ষড়যন্ত্রকে দৃঢ়চিত্তে ঠেলে ফেলে একাত্তরের ঘাতক ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করে বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সাহসী ও দায়বদ্ধ এই নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনস্বরূপ আমাদের এ আয়োজন। ’


মন্তব্য