kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পৌঁছেছে ছোট্ট শীর্ষেন্দুর হাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পৌঁছেছে ছোট্ট শীর্ষেন্দুর হাতে

পটুয়াখালীতে গতকাল জেলা প্রশাসক এ কে এম শামীমুল হক সিদ্দিকী চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাসের হাতে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি আনুষ্ঠানিভাবে তুলে দেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

খরস্রোতা পায়রা নদীতে সেতু নির্মাণের আশ্বাস সংবলিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিঠি হাতে পেয়েছে পটুয়াখালীর চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাস। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় চিঠি হাতে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা শীর্ষেন্দু সাংবাদিকদের বলে, ‘আমি খুব খুশি হয়েছি।

আমি আনন্দিত। এটি আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানাই। ’

পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র শীর্ষেন্দুর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিটি হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক এ কে এম শামীমুল হক সিদ্দিকী। গত ১৫ আগস্ট পটুয়াখালীর পায়রা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিন পৃষ্ঠার হাতে লেখা একটি চিঠি মা শীলা রানীর মাধ্যমে ডাকযোগে পোস্ট করে শীর্ষেন্দু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিঠিটি পেয়ে ৮ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর দিয়ে ডাকযোগে চিঠির উত্তর পাঠান শীর্ষেন্দুর কাছে। ২০ সেপ্টেম্বর ওই চিঠি জুবিলী স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষেন্দুর হাতে ওই চিঠি তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন খান মোশারেফ হোসেন, তারিকুজ্জামান মনি, কাজী আলমগীর হোসেন, আবু বক্কর সিদ্দিক ও সুলতান আহমেদ মৃধা।

চিঠি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শীর্ষেন্দুর দাদু মুক্তিযোদ্ধা অবিনাশ চন্দ্র সন্নামত বলেন, ‘৭১ সালে যুদ্ধ করেছি দেশ স্বাধীনের জন্য, আর আমার নাতি এখন মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে চেষ্টা করছে। ওর এই কর্ম আমাদের সবাইকে ধন্য করেছে। প্রধানমন্ত্রী একটি শিশুর চিঠি পেয়ে তা গুরুত্বের সঙ্গে পড়ে সেই চিঠির উত্তর পাঠিয়েছেন, এ জন্য আমি ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। ’

এদিকে শীর্ষেন্দুর লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ জুবিলী স্কুল কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলে জানান জেলা প্রশাসক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এ কে এম শামিমুল হক সিদ্দিকী। এ ছাড়া পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক খান মোশারেফ হোসেন শীর্ষেন্দুর জন্য জেলা পরিষদের তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ মৃধা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে শীর্ষেন্দুর জন্য ১০ হাজার টাকা দেওয়ারও ঘোষণা দেন।

পায়রা নদীতে সেতু নির্মাণে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক কাজ : এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শিশু শীর্ষেন্দুর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে পদক্ষেপ নিয়েছে। শুরু হচ্ছে প্রাথমিক কাজ। আশা করা হচ্ছে দেড় বছর পর এ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে।

গতকাল রাজধানীর মিরপুরে গাবতলী-শিরনিরটেক সড়ক উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শীর্ষেন্দুর চিঠি প্রধানমন্ত্রী সানন্দে গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছি। আগামী সপ্তাহে সম্ভাব্যতা যাছাইয়ের জন্য একটি দল মীর্জাগঞ্জে যাবে।

প্রধানমন্ত্রীকে সংসদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন : স্কুল ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাসের চিঠির জবাব ও পায়রা নদীতে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। গতকাল রাতে জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে পটুয়াখালীর সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরে অধিবেশনে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী ওই শিশুর চিঠির জবাব দিয়ে শুধু পটুয়াখালীর মানুষদের হৃদয় কাড়েননি, সারা দেশের মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছেন। সারা দেশের মানুষকে উদ্বেলিত করেছেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সংসদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ সংসদ সদস্যদের কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন পড়ে শোনান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপামর জনসাধারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আজ (সোমবার) পটুয়াখালীর চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শীর্ষেন্দুর চিঠির জবাব দিয়ে যে নজির স্থাপন করলেন, তা সত্যিই দেশের মানুষকে উদ্বেলিত করেছে। একমাত্র জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যার পক্ষেই এটা করা সম্ভব। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় সংসদের সকল সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

এ সময় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানান।


মন্তব্য