kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শাহজালালে ময়লার ঝুড়িতে দেড় কোটি টাকার সোনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ময়লার ঝুড়ি থেকে তিন কেজি ওজনের ১০টি সোনার বার জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। যার বাজারমূল্য আনুমানিক দেড় কোটি টাকা।

গতকাল সোমবার ভোরে ইমিগ্রেশনসংলগ্ন টয়লেটের ভেতরে রাখা ময়লার ঝুড়ি থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় বারগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গতকাল সকালে শাহজালাল থেকে ২৫ লাখ টাকার আমদানি নিষিদ্ধ ৪০২ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান কালের কণ্ঠকে জানান, সোমবার ভোরে শুল্ক গোয়েন্দার উপস্থিতি টের পেয়ে কোনো যাত্রী ওই সোনা ইমিগ্রেশনের টয়লেটের ঝুড়িতে ফেলে পালিয়ে যায়। উদ্ধার করা সোনার বারগুলো ময়লার ঝুড়িতে টিস্যু দিয়ে মুড়িয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। এর ভেতর পাঁচটি প্যাকেটে ১০টি সোনার বার কালো স্কচটেপে মোড়ানো ছিল। সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে এগুলো খুলে ৫০০ গ্রাম ওজনের পাঁচটি এবং ১০০ গ্রাম ওজনের পাঁচটিসহ মোট ১০টি বার পাওয়া যায়। এর মধ্যে এক কেজি ওজনের দুটি বার চার টুকরা করা অবস্থায় ছিল। পরে ওজন করে দেখা যায় এই ১০টি বার তিন কেজির। যার বাজারমূল্য দেড় কোটি টাকা। তিনি জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে ভোর ৫টা থেকে তাঁরা বিমানবন্দরের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেন। বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি করার একপর্যায়ে ৬টার দিকে ঝুড়িতে সোনার বারগুলো পাওয়া যায়। ভোরের ওই সময়ে বিজি কুয়ালালামপুর, দোহা থেকে কাতার ফ্লাইট ও কুয়েত থেকে কুয়েত ফ্লাইট প্রায় একসঙ্গে অবতরণ করে। ভিডিও ফুটেজ দেখে যাত্রী ও সম্ভাব্য সহযোগী হিসেবে বিমানবন্দরের কর্মীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে জব্দ হওয়া সোনার বারগুলো ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে।

সিগারেটের চালান জব্দের ব্যাপারে মইনুল খান বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিমানবন্দরের কাস্টমস হলের ৪ নম্বর বেল্টের সামনে থেকে ৪০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। জব্দ করা সিগারেটের মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। কাস্টমস হলের ৪ নম্বর বেল্টের সামনে পড়ে থাকা দুটি লাগেজ, দুটি কার্টন, চারটি হাতব্যাগ বেনসন অ্যান্ড হেজেস ও ডানহিল ব্র্যান্ডের সিগারেট জব্দ করা হয়। এসব লাগেজ ট্যাগে আবু ও জামাল নামের দুই যাত্রীর নাম লেখা রয়েছে। সিগারেটগুলো দোহা থেকে কাতার এয়ারওয়েজের মাধ্যমে ভোরে ঢাকায় আসে। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী সিগারেটের প্যাকেটে বাংলায় ধূমপানবিরোধী সতর্কীকরণ লেখা থাকতে হবে। এই সতর্কীকরণ ছাড়া বিদেশ থেকে সিগারেট আমদানি করা যায় না। এ ছাড়া এসব সিগারেটের ওপর শতকরা প্রায় ৪৫০ শতাংশ কর দিতে হয়। কর এড়ানোর জন্য এসব সিগারেট পাচার করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।


মন্তব্য