kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আইএলওর বেটার ওয়ার্ক কর্মসূচির প্রতিবেদন

পোশাক খাতে কর্মপরিবেশ উন্নত তবে সামাজিক কমপ্লায়েন্সে ঘাটতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশের পোশাকশিল্প খাতে সামাজিক কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত শ্রম ঘণ্টা, শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, মাতৃত্বকালীন ছুটির মতো বিষয়গুলোতে দুর্বলতা লক্ষণীয়।

তবে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কাজের পরিবেশ বেশ উন্নত হয়েছে। শ্রমিকদের জীবনমানেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের ব্যবসাও অনেক শক্তিশালী হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বেটার ওয়ার্ক কর্মসূচির বাংলাদেশ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক লুইস ভানিগ্যাস গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে বেটার ওয়ার্ক কমসূচির ৯৪টি কারখানার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

জেনেভায় আইএলওর বেটার ওয়ার্ক কর্মসূচির ‘প্রোগ্রেস অ্যান্ড পটেনশিয়াল’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ কার্যালয়ে লুইস ভানিগ্যাস এসব কথা বলেন। গতকাল জেনেভা থেকে একযোগে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। আইএলওর বেটার ওয়ার্ক কর্মসূচি এবং ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) যৌথভাবে করা মুক্ত পর্যালোচনা থেকে বাংলাদেশের পোশাক খাতের নানামুখী তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের টাফট ইউনিভার্সিটি সাতটি দেশের ১০০ পোশাক কারখানায় জরিপ চালায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেটার ওয়ার্ক কর্মসূচির আওতায় থাকা কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের দীর্ঘ সময় কাজ করানো, কম মজুরি দেওয়া, চাকরিচ্যুতির হুমকি এবং শিক্ষানবিশকালে শ্রমিক হয়রানি অনেকটা কমে এসেছে। এ ছাড়া ভিয়েতনাম, হাইতি ও নিকারাগুয়ায় বেটার ওয়ার্ক কর্মসূচির আওতায় থাকা কারখানাগুলোতে নারী ও পুরুষের মজুরিবৈষম্য নেই বললেই চলে। জর্দানে শ্রমিক হয়রানি ১৮ শতাংশ কমে এসেছে।

বেটার ওয়ার্ক কর্মসূচি হলো আইএলও এবং বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক বিশেষায়িত শাখা আইএফসির যৌথ অংশীদারমূলক কর্মসূচি। এটি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় কারখানাগুলোর উত্পাদনশীলতা, মান ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কারখানার ভেতরে কাজের পরিবেশের উন্নয়নে কাজ করে। বাংলাদেশ, হাইতি, ইন্দোনেশিয়া, লেসোথো, নিকারাগুয়া, জর্দান, ভিয়েতনামসহ সাতটি দেশের তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশে বেটার ওয়ার্ক কর্মসূচির যাত্রা শুরু ২০১৪ সালের অক্টোবরে। দেশের ৯৮টি কারখানা এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এসব কারখানায় দুই লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করে, যার ৫৪ শতাংশই নারী। আন্তর্জাতিক ৩১টি বায়ার এ কর্মসূচির অংশীদার। এর মধ্যে ১৯টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনে থাকে।


মন্তব্য