kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অনুশীলন শুরু

মূল বিষয় ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রস্তুতি

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অনুশীলন শুরু

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে গতকাল আর্মি গলফ ক্লাবে ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রস্তুতির ওপর অনুশীলনের উদ্বোধন করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং ইউনাইটেড স্টেটস (যুক্তরাষ্ট্র) আর্মি প্যাসিফিকের যৌথ উদ্যোগে ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রস্তুতির ওপর অনুশীলন ডিজাস্টার রেসপন্স এক্সারসাইজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (ড্রি) শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার এর উদ্বোধন হয়েছে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি গলফ ক্লাবে।

এই অনুশীলন দুই পর্বে ২৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর এবং ৩ থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বত্তৃদ্ধতা করেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক। এ ছাড়া বত্তৃদ্ধতা করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সপ্তমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ অনুশীলন সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মোহসিন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের লে. কর্নেল জাহাঙ্গীর এবং ইউএস আর্মি প্যাসিফিকের মেজর জশ মেডলিঙ্গার। দুর্যোগ হিসেবে বজ্রপাত থেকে বাঁচার উপায় নিয়েও এ অনুশীলনে আলোচনা হবে বলে তাঁরা জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ অনুশীলনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ছাড়াও দেশি-বিদেশি ১০০টি সংস্থার প্রায় এক হাজার প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভারতের প্রতিনিধি আছেন প্রায় ৪৫ জন। ড্রির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ঢাকা শহরের ভূমিকম্প দুর্যোগ মোকাবিলায় সব সংস্থার কার্যক্রম অনুশীলন ও যথার্থতা যাচাই। এই যৌথ অনুশীলনের মাধ্যমে ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, অনুশীলনে অংশগ্রহণকারী সব সহযোগী সংস্থার কর্মপদ্ধতির সমন্বয়, পারস্পরিক ধারণা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা সহায়তাসহ বিভিন্ন সংস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা সম্ভব হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি জাতীয় ডাটাবেইস ও ওয়েব পোর্টাল তৈরির কাজ চলছে। এই অনুশীলনে এটিও ব্যবহার করা হবে। অনুশীলনটিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ডিজিএমএস, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, বিএনসিসি, বাংলাদেশ স্কাউট, ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি, তিতাস গ্যাস কম্পানি লিমিটেড, ওয়াসা, গণপূর্ত অধিদপ্তর, বিটিসিএল, ডিপিডিসি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, আইএসপিআর এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সঙ্গে সম্পর্কিত সরকারি-বেসরকারি প্রায় ১০০টি সংস্থাকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

আগামী ৪ ও ৫ অক্টোবর মাঠপর্যায়ে অনুশীলন অনুষ্ঠিত হবে। ৬ অক্টোবর অনুশীলনের সমাপনী অনুষ্ঠান আর্মি গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে।


মন্তব্য