kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

নিবেদিত বড় কর্তা!

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নিবেদিত বড় কর্তা!

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের গাড়ি পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কিভাবে করা যায় তা জানতে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল সফরে গেছেন একজন অতিরিক্ত সচিব ও একজন যুগ্ম সচিব। তাঁদের সঙ্গে গেছেন একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী।

তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) খান মোহাম্মদ বিলাল, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রওশান আরা বেগম ও ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিসুর রহমান। গত ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁরা বিদেশ সফরে বেরিয়েছেন, ফিরবেন ৩ অক্টোবর।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নন এমন দুইজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিদেশ সফর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ডিএসসিসিতে হাস্যরস সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া, ডিএসসিসির দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তির বিদেশে অবস্থানের কারণে দৈনন্দিন কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘বিদেশে যাঁরা যান, তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানা-বোঝার জন্যই যান। ময়লার গাড়ি পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব এসেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে। তাই এ বিষয়ে আমার বেশি কিছু বলার নেই। ’ তিনি বলেন, ‘যাঁরা বিদেশে গিছেন তাঁরা দেশে এসে প্রশিক্ষণের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শেয়ার করলে কিছুটা সুফল পাওয়া যাবে। ’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পে-লোডার ও টায়ার ডোজারের ওপর প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল সফরে গেছেন তিন কর্মকর্তা। গত ১৮ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগের এক আদেশে তাঁদের বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, এসব যান পরিচালনা বা রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে যান্ত্রিক বিভাগের প্রকৌশলীরা সরাসরি জড়িত থাকেন। একেকটি গাড়ির দাম কয়েক কোটি টাকা। এ ধরনের গাড়ি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মাত্র কয়েকটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রকৌশলীরা এসবের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন। একজন অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিবের কোনোভাবে এতে সংশ্লিষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই বা হয় না। বিদেশ সফরকারীদের মধ্যে প্রেষণে ডিএসসিসিতে এসেছেন এমন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাঁরা বদলি হয়ে গেলে এ প্রশিক্ষণে কী কাজে লাগবে?

ওই কর্মকর্তারা বলেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে সংশ্লিষ্টদের প্রায়ই বঞ্চিত করা হয়। এর কারণ, উচ্চ কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণের নামে ‘প্রমোদ ভ্রমণ’-এর সুযোগ খোঁজেন। প্রায়ই তাঁরা এমন করেন। বিদেশ থেকে ফিরে এসে অভিজ্ঞতাবিষয়ক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয় না। এ ধরনের ফাঁকি বন্ধ করা উচিত। যথাযথ নিয়মে বিদেশ সফরে লোক পাঠানো উচিত।

ডিএসসিসির পরিবহন চালক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আকতার দেওয়ান বলেন, পে-লোডার ময়লা ডাম্পারে ওঠায়। আর টায়ার ডোজার ময়লা সরানোর কাজ করে। এসব যান যারা চালায় তাদের পক্ষে অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিবের কক্ষে প্রবেশ করাই সম্ভব নয়। চালকরা কখনো তাঁদের দেখতেই পায় না। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে ময়লার গাড়ি পরিচালনা বা রক্ষাবেক্ষণের প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা কর্মকর্তারা কখনো চালক বা সুপারভাইজারদের নিয়ে সভা করেছেন—এমন নজির নেই। উচ্চকর্তাদের এ জাতীয় প্রশিক্ষণ কোনো কাজে আসবে না।

ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খোন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বলেন, ‘এসব ভারী যন্ত্রপাতির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ যান্ত্রিক বিভাগ করে। আমরাও (বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ) কিছুটা অবহিত থাকি। বড় স্যাররা প্রশিক্ষণ নিয়ে কী করবেন তা তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। ’


মন্তব্য