kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভবদহে জলাবদ্ধতা

ফুঁসে উঠেছে মানুষ

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ফুঁসে উঠেছে মানুষ

যশোরে ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে রবিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেড় মাস ধরে পানিবন্দি যশোরের তিন উপজেলার দুই লাখের বেশি মানুষ। কিন্তু পানি সরানোর কোনো উদ্যোগ নেই।

মানুষ ভয়াবহ ভোগান্তির মধ্যে থাকলেও এলাকাটিকে দুর্গত ঘোষণা করা হয়নি। দুর্গতির শিকার এসব মানুষ এবার ফুঁসে উঠেছে।

যশোরের মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলার পানিবন্দি মানুষ অবস্থান ধর্মঘট করেছে। স্মারকলিপি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে তারা এসব কর্মসূচি পালন করে।

গত ২৪ আগস্ট একটি এস্কেভেটর দিয়ে ভবদহের পলি অপসারণের কাজ শুরু হয়। গত ১১ সেপ্টেম্বর ভবদহ কলেজ মাঠে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের উপস্থিতিতে বিল কাপালিয়ায় টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সেটা এখনো শুরু হয়নি। পলি অপসারণ পদ্ধতি চালু থাকলেও পানি সরছে ধীরগতিতে।

সংগ্রাম কমিটির ভাষ্য হচ্ছে, মাত্র ৯ ইঞ্চি পানি কমেছে। জলাবদ্ধ এলাকার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করেছে। যে কারণে পানিবন্দি মানুষ দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। গত রবিবার যশোরের জেলা প্রশাসন কার্যালয় ঘেরাও করে হাজার হাজার মানুষ। এই কর্মসূচির পর পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে ভবদহ এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য ও পুনর্বাসন, তিনটি এস্কেভেটর দিয়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হরিহর নদীসহ এলাকার অন্যান্য নদী খনন, বিল কাপালিয়ায় টিআরএম প্রকল্প চালু, আমডাঙ্গা খাল খনন ও স্লুইস গেট মেরামত, পানি সরার পরপরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট মেরামতের দাবি জানানো হয়। সংগ্রাম কমিটির নেতারা বলেন, কোরবানির ঈদ মাটি হওয়ার পর এবার দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনও তাঁদের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

যশোর সদর, মণিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর উপজেলা ও খুলনার ফুলতলা উপজেলার কয়েক শ গ্রাম ও ২৭টি বিলের পানি নিষ্কাশনের প্রধান উপায় হচ্ছে ভবদহ স্লুইস গেট। ১৯৬১ সালে অভয়নগরের ভবদহ এলাকায় এ গেট নির্মাণ করা হয়। গেটসংলগ্ন হরিহর নদী পলি পড়ে ভরাট হয়ে যায়। ভরাট হয়ে যায় পাশের শ্রী ও টেকা নদী। এ কারণে গত আগস্ট মাসে দুই দফা ভারি বর্ষণে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।


মন্তব্য