kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দক্ষিণখানের সিরিয়াল কিলার

ফেসবুকে তিনটি ভিডিও শনাক্ত হয়নি খুনি

এস এম আজাদ   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ৫ মিনিট। রাজধানীর দক্ষিণখানের উত্তর গাওয়াইরের একটি পাঁচতলা বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে উঠছেন এক মধ্য বয়সী নারী।

সালোয়ার-কামিজ পরা ওই নারীকে অনুসরণ করে পেছনে উঠছেন এক যুবক। প্যান্ট-শার্ট পরা যুবকটির কাঁধে কালো ব্যাগ। ছয় মিনিট পর ৩টা ১১ মিনিটে নেমে আসেন দুজনেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত তিনটি ভিডিও চিত্রে এই দৃশ্য দেখা গেছে। বলা হচ্ছে, নারীর সঙ্গে থাকা যুবকটিই রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার আলোচিত সিরিয়াল কিলার, যে মধ্য বয়সী তিন নারীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আরো একজনকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে এই ধারাবাহিক খুনের আলামত পাওয়ার ১৭ দিন পার হলেও ওই খুনিকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ফেসবুক পেইজে ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এর আগের দিন ভুক্তভোগী এক স্বজন ৩৮ ও ২১ সেকেন্ডের আরো দুটি ভিডিও ফেসবুকে দিয়েছেন। তবে এসব ভিডিওতে সন্দেহভাজন সেই সিরিয়াল কিলারের ছবি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর ভাড়াটিয়া বেশে গাওয়াইরের দক্ষিণপাড়ায় একটি বাড়িতে গিয়ে ওয়াহিদা আক্তার নামের এক গৃহকর্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে ওই যুবক। ঘটনার কয়েক মিনিট আগে একই কৌশলে পাশের পাঁচতলা বাড়িটিতে যায় সেই খুনি। সেই বাড়ির  ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাই ধরা পড়ে খুনির ছবি। বাড়িটির পাঁচতলার বাসায় লোকজন থাকায় যুবকটি ওই নারীকে হত্যা করতে পারেনি। চলে যাওয়ার আগে সে গৃহকর্ত্রীকে বলে যায়, ‘কষ্ট করে পাঁচতলায় গেলাম। কোনো লাভ হলো না!’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পুলিশ আশপাশে তদন্ত চালিয়ে সিরিয়াল কিলার ওই যুবকের পাঁচতলা বাড়িতে যাওয়ার তথ্য পায়। বাড়িটির ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করে ১০ ঘণ্টার চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন তাঁরা। সেখান থেকে তৈরি করা হয় ৫২ সেকেন্ডের সেই ভিডিও, যেখানে যুবকটির উপস্থিতি আছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ২৮ মিনিটে ঢাকা নগর পুলিশ ফেসবুক পেইজে ভিডিও চিত্রটি আপলোড করে। একই সঙ্গে এই যুবকের নাম, পরিচয় ও অবস্থান জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার আশ্বাস দিয়ে ০১৭১৩৩৭৩১৬৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দক্ষিণখান থানার ওসি সৈয়দ লুত্ফর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছবিটি পরিষ্কার না হলেও আমরা ডিএমপির মিডিয়ার মাধ্যমে তা প্রকাশ করেছি। কারণ পরিচিতরা অস্পষ্ট ছবি দেখলেও চিনে ফেলতে পারে। আমরা বিভিন্নভাবে তদন্ত চালাচ্ছি। ’

পুলিশ ও এলাকাবাসী বলছে, ভাড়াটিয়া বেশে আসা একজন যুবকই বাসা দেখার নাম করে গত দেড় মাসে চারটি বাড়িতে হামলা চালায়। যেখানে তিন নারী নিহত হয়েছেন। আহত হলেও বেঁচে গেছেন একজন। তার হামলার শিকার চারজনই বাড়ির মালিকের স্ত্রী এবং মধ্য বয়সী।

সর্বশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর গাওয়াইরের দক্ষিণপাড়ায় ৭১৫ নম্বর বাড়িতে ওয়াহিদা আক্তার নামে এক নারীকে খুন করে ওই যুবক। ওই ঘটনার তদন্তে নেমেই পুলিশ ধারাবাহিক এসব হত্যাকাণ্ডের আলামত পায়। এর আগে গত ২৪ জুলাই দক্ষিণখানের উত্তর গাওয়াইরে গৃহকর্ত্রী শাহিদা বেগমকে হত্যা করা হয়। ২১ আগস্ট পূর্ব মোল্লারটেকের তেঁতুলতলার গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগমকে একইভাবে হত্যা করা হয়। গত ৩১ আগস্ট দক্ষিণ আজমপুরে জেবুন্নিসা চৌধুরীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় ওই ব্যক্তি।


মন্তব্য