kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রাম-কিশোরগঞ্জে ছাত্রলীগের মারামারি

সৈয়দ নজরুল মেডিক্যাল বন্ধ নিয়ে বিভ্রান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজে কমিটি করা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে মারামারি হয়েছে। গত শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম কলেজে সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে গতকাল রবিবার দুপুরে। ছাত্রলীগের মারামারির পর সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ গতকাল দুপুরে বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে বলা হয়। তবে কয়েক ঘণ্টা পর কলেজ কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানায়, এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। রাতে আবার বৈঠক করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে জানানো হবে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

কিশোরগঞ্জ : সম্প্রতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি অনুমোদন দেয় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। নাসিরুল ইসলামকে সভাপতি ও রাজিব মাহমুদ রাজুকে সাধারণ সম্পাদক করে এ কমিটি করা হয়েছে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরেই কমিটির পক্ষে-বিপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শনিবার রাতে মনছুর খলিল ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের কয়েকজন সামান্য আহত হয়।

এ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা থাকায় গতকাল দুপুরে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভা করে কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ খবর শুনে গণমাধ্যমকর্মীরা ভিড় করেন কলেজে। তখন বেশ কিছু টিভি চ্যানেলে কলেজ বন্ধ, হল ত্যাগের নির্দেশ, তদন্ত কমিটি ও ছাত্ররাজনীতির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বক্তব্যও দেন কলেজ অধ্যক্ষ।

অধ্যক্ষ ডা. মো. রুহুল আমিন খান বলেন, ঘটনা তদন্তে কলেজের উপাধ্যক্ষ সজল কুমার সাহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কলেজ বন্ধ ঘোষণার বিষয়টি জানিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, ছাত্রদের গতকাল বিকেল ৫টা এবং ছাত্রীদের আগামীকাল সকাল ৭টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাময়িকভাবে ছাত্ররাজনীতির ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথা জানান। তবে কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে আবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. রুহুল আমিন বলেন, এ নিয়ে নানা মহল থেকে বিভিন্ন রকম কথাবার্তা চলে আসে, তাই বিষয়টি নিয়ে আবার রাতে বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কোনো চাপের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো কি না—জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, রাতে সিদ্ধান্তের পর আপনাকে পুরো বিষয়টি জানানো হবে।

আগের রাতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি মোর্শেদ জামান জানান, বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছিল মাত্র। রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম কলেজে ইংরেজি বিভাগের সেমিনার কক্ষে বসা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন খাদেমুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল সায়মন, কায়সার উদ্দিন ও মনির উদ্দিন। চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা সবাই ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন সদস্য জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলামের অনুসারী ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে।


মন্তব্য