kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অন্যকে উদ্ধারে গিয়ে নিজে অপহৃত

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অন্যকে উদ্ধারে গিয়ে নিজে অপহৃত

অন্যকে উদ্ধার করতে গিয়ে চরমপন্থীদের হাতে অপহৃত হয়েছেন এক ব্যক্তি। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পার হলেও গতকাল রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ থানা পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করতে পারেনি।

অপহৃত বাবলু মিজি (৩৫) জেলা সদরের কুটিপাঁচুরিয়া গ্রামের ছানাউল্লা মিজির ছেলে। তিনি পাঁচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী ছিলেন।

গতকাল সকালে রাজবাড়ী থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা জেলা সদরের কোমরপাড়া গ্রামের ইউনুস গাজীর ছেলে রাজীব গাজী (২৩) বলেন, এক বন্ধুর স্ত্রীর (১৮) সঙ্গে তাঁর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে তিনি ওই নারীকে নিয়ে গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল কাটাখালী গ্রামের পূর্বপরিচিত হাবিবের বাড়িতে ওঠেন। শনিবার ভোরে একদল চরমপন্থী সদস্য ওই বাড়িতে আসে। তারা তাঁকে ও বন্ধুর স্ত্রীকে জিম্মি করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি তাঁর মামা (জেলা সদরের আব্দুর রাজ্জাক সিকদারের ছেলে) মাসুদ সিকদারকে (৩২) মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। তাঁর মামা ঘটনাস্থলের অদূরে থাকা কুটিপাঁচুরিয়া গ্রামের বাবলু মিজির বাড়িতে গিয়ে অবহিত করেন। তাঁদের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করতে ওই দিন সকাল ৯টার দিকে বাবলু কাটাখালীর হাবিবের বাড়িতে যান। এর পর পর সেখানকার দৃশ্য পাল্টে যায়। হঠাৎ করে গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা ১৪-১৫ জন চরমপন্থী ওই বাড়িতে আসে। তারা অস্ত্রের মুখে বাবলুকে জিম্মি করে টেনে-হিঁচড়ে মারতে মারতে পদ্মা নদীর দিকে নিয়ে যায়। সেই সঙ্গে তাঁর দিকে অস্ত্র তাক করে পেছনে না তাকিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তিনি প্রাণভয়ে দৌড়ে চলে এলেও বন্ধুর স্ত্রী ও বাবলুর সন্ধান পাচ্ছেন না।

গতকাল দুপুরে বাবলুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সবাই কাঁদছে। এরই মাঝে খবর আসে নদীর তীরে দেখা মিলেছে বাবলুর লাশ। ফলে আহাজারি বেড়ে যায়। যদিও খবরটি ছিল মিথ্যা। আহাজারি করতে থাকা বাবলুর মা জোহরা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে মাসুদ আর তার ভাগিনা রাজীব গাজী ডেকে নিয়ে গেছে। তারাই তাকে চরমপন্থীদের হাতে তুলে দিয়েছে। ’

বাবলুর স্ত্রী রজনী বেগম বলেন, ‘আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। উদ্বেগ, উত্কণ্ঠা আর চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। ’ তাঁদের ধারণা, চরমপন্থীরা তাঁর স্বামীকে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দিতে পারে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মির্জা এ কে আজাদ বলেন, ‘ঘটনাস্থল রাজবাড়ী জেলা সদরে। তার পরও সদর থানা পুলিশকে সহযোগিতা করছি। গত শনিবার বিকেল থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত দুই থানা পুলিশের কাটাখালীর হাবিবের বাড়ি, পদ্মা নদীসহ চরাঞ্চলের নানা স্থানে অভিযান চলেছে। ’

রাজবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল বাশার মিয়া বলেন, ‘চরমপন্থীরা যে বাবলুকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে চরমপন্থীরা তাঁকে কোথায় নিয়ে গেছে, তা এখনো জানতে পারিনি। ৩৬ ঘণ্টা ধরে ট্রলার নিয়ে পদ্মা নদী ও এর আশপাশ এলাকা তন্ন তন্ন করে খোঁজা হয়েছে। তবে কোথাও নিখোঁজ দুজনকে পাওয়া যায়নি। উদ্ধার তত্পরতা অব্যাহত রয়েছে। মাসুদ সিকদার ও তার ভাগিনা রাজীব গাজীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ’


মন্তব্য