kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রামপাল প্রকল্প বাতিল দাবিতে মোদিকে চিঠি দেবে জাতীয় কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সুন্দরবনসংলগ্ন রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বরাবর চিঠি দেবে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। তারা আগামী ১৮ অক্টোবর ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে এই চিঠি দেবে।

জাতীয় কমিটির চিঠিতে বলা হবে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে এর কারণে সুন্দরবন ধ্বংস হবে। এই কেন্দ্রের অর্ধেক মালিকানা রয়েছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কম্পানির (এনটিপিসি)। এ ছাড়া কেন্দ্র নির্মাণ করছে অন্য ভারতীয় কম্পানি ভেল। আর অর্থ দিচ্ছে ভারতের এক্সিম ব্যাংক। এ কেন্দ্র বন্ধে ভারতের এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার জন্যই চিঠি প্রদানের এই উদ্যোগ।

কমিটি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় কমিটির ব্যানারে আন্দোলনকারীরা ১৮ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে হেঁটে গুলশানে ভারতীয় হাইকমিশনের কার্যালয়ে যাবেন। সেখানে তাঁরা হাইকমিশনের মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদি বরাবর লেখা চিঠিটি হস্তান্তর করবেন।

এ ছাড়া জাতীয় কমিটি আগামী নভেম্বরে ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে নভেম্বর মাসের শেষের দিকে ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ করবে কমিটি। ওই মহাসমাবেশে দেশের বাইরে থেকেও পরিবেশবাদীরা যোগ দিতে পারেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

কমিটিতে ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য পদ স্থগিত হতে পারে : জাতীয় সম্পদ রক্ষায় দেশব্যাপী তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি নানামুখী আন্দোলন করে আসছে। এই কমিটির নেতৃত্বেই চলছে সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী আন্দোলন। কিন্তু কমিটির শরিক সংগঠন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির বিভিন্ন সময়ের ভূমিকা নিয়ে অন্যান্য সংগঠন ক্ষুব্ধ। সর্বশেষ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী আন্দোলনেও সংগঠনটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সহযোগীরা। এ অবস্থায় ওই সব সংগঠনের দাবি, জাতীয় কমিটির ব্যানারে ওয়ার্কার্স পার্টি মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে সাফাই গেয়ে যাচ্ছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা গত ৯ অক্টোবর গণমাধ্যমকে একটি সাক্ষাত্কার দেন। তাতে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না। কিন্তু প্রকল্প হলে সুন্দরবনের চারপাশে অন্যান্য শিল্প গড়ে উঠলে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই যাতে অন্য কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠতে পারে সেদিকে সুদৃষ্টি রাখতে হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘এ প্রকল্প নিয়ে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আন্দোলন করছে। কিন্তু কমিটির একটি অংশ এই আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপিকে সরকার উত্খাতের আন্দোলনের পথ করে দিতে চায়। তাদের কাছে সুন্দরবন রক্ষা বা রামপাল কোনো ইস্যু নয়, উদ্দেশ্য একটাই, তা হলো বিএনপিকে পথ করে দেওয়া। ’

ফজলে হোসেন বাদশার ওই সাক্ষাত্কারকে কেন্দ্র করে জাতীয় কমিটিতে ওয়ার্কার্স পার্টিবিরোধী অংশ আরো বেশি খেপেছে। ওয়ার্কার্স পার্টিকে এরই মধ্যে কারণ দর্শাও নোটিশও দিয়েছে কমিটি। তাতে বলা হয়েছে, ‘আপনারা আন্দোলনের সঙ্গে থাকার পরও কেন জাতীয় কমিটির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তা জানাবেন। ’

নাম না প্রকাশের শর্তে কমিটির এক নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগেও ওয়ার্কার্স পার্টির বিতর্কিত ভূমিকার কারণে বেশ কিছু সংগঠন জাতীয় কমিটি থেকে তাদের বের করে দিতে লিখিতভাবে দাবি জানিয়েছিল। তারা কমিটির আন্দোলন-সংগ্রামকে বিভ্রান্ত করছে, ক্ষতি করছে। ’


মন্তব্য