kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাজধানীর দুই হাসপাতালকে ২২ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর দুই হাসপাতালকে ২২ লাখ টাকা জরিমানা

ভুয়া প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট দেওয়া ও অবৈধ ওষুধ বিক্রি করাসহ বেশ কিছু অভিযোগে রাজধানীর দুই হাসপাতালকে ২২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল রবিবার র‌্যাব-২-এর উদ্যোগে সোনারগাঁও রোডে পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল ও হাতিরপুল রোডে ব্রাইটন হাসপাতালে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম।

সে সময় র‌্যাব-২-এর উপপরিচালক মাহবুব আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহজাহান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ড্রাগ সুপার রাজিবুল হাবিব ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে অভিযানের সময় দেখা গেছে, চিকিৎসকের স্ক্যান করা স্বাক্ষরযুক্ত প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক টেস্টের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট। হাসপাতালের অনুমোদন ছাড়াই ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা করা হচ্ছে। সংগৃহীত রক্ত সাধারণ ফ্রিজারে রাখা হয়েছে। ব্লাড গ্রুপিংয়ের অ্যাম্পুলের তারিখ ঘষামাজা করা। মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নেই। খুবই নোংরা পরিবেশে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ল্যাব চালানো হয়। এক্স-রে রুম এবং অপারেশন থিয়েটার নোংরা, ধুলোয় ভর্তি। হাসপাতালের ফার্মেসিতে আট ধরনের অবৈধ ওষুধ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ব্রাইটন হাসপাতালে অদক্ষদের দিয়ে ল্যাব চালানো হচ্ছে। সেখানে সাধারণ অপরিচ্ছন্ন ফ্রিজার ব্যবহার করা হচ্ছে। ফ্রিজারের তাপমাত্রা সঠিক ছিল না। অপারেশন থিয়েটারের সামনে ডাস্টবিন রাখা হয়েছে। অপরিচ্ছন্নভাবে অপারেশন থিয়েটার পরিচালনা করা হচ্ছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম জানান, ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া ও অবৈধ ওষুধ বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার আবু সালেহ খান, ল্যাব ইনচার্জ কামাল হোসেন শিমুল, টেকনিশিয়ান রবিউল ইসলাম এবং রিসিপশনিস্ট মৃণাল সরকারকে মোট ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে প্রত্যেকের তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। আর ব্রাইটন হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মাসুদ রেজা, এজিএম নাজমুল হুদা ও অ্যাডমিন অফিসার রায়হান উদ্দিনকে মোট ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে প্রত্যেকের তিন মাসের কারাদণ্ড।

র‌্যাব-২-এর উপপরিচালক মাহবুব আলম জানান, জব্দকৃত বিদেশি ওষুধ ধ্বংস করার জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে। র‌্যাব-২-এর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


মন্তব্য