kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিয়ের আসর থেকে স্কুলে

মুরাদনগর প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিয়ের আসর থেকে স্কুলে

বিয়ের প্রস্তুতি চূড়ান্ত, অতিথির পদচারণে সরগরম বাড়িঘর। সেখানে কনের সাজে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার (১৪)।

বর আসার জন্য যখন অপেক্ষা, আর তখনই ঘটেছে ছন্দপতন। নাটকীয় কায়দায় সব কিছু পণ্ড—শ্বশুরালয় নয়, বিয়ের পাত্রীকে পৌঁছে দেওয়া হলো স্কুলে। এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানাসহ মুচলেকা আদায় করলেন অভিভাবকদের কাছে থেকে। স্কুল ড্রেস পরিয়ে বই-খাতা হাতে তখনই শারমিনকে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। গতকাল রবিবার কুমিল্লার মুরাদনগরে ঘটেছে এ ঘটনা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রীরামপুর ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন আক্তার। তাদের বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার চাপিতলা ইউনিয়নের পুষ্করিণীরপাড় গ্রামে। বাবা নাছির উদ্দিন বিদেশে অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় মায়ের সম্মতিতে স্বজনরা শারমিনের বিয়ের আয়োজন করেছিল। কিন্তু বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনসুর উদ্দিন গতকাল দুপুরে পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ উপস্থিত হন বিয়েবাড়িতে। তখন অনেক অতিথিই খাবার খাচ্ছিল, অন্যরা বরপক্ষের জন্য অপেক্ষা করছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত আকস্মিক অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেন এ বাল্যবিয়ের আসর। স্কুল ছাত্রীর মা সাজেদা বেগম, চাচা হাবিবুর রহমান, শাহ আলম ও মোস্তফাকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক মা সাজেদা বেগম মুচলেকা দেন শারমিনকে ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না বলে।

শারমিনকে বিয়ের আসর থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে স্কুল ড্রেস পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে। সংবাদ জেনে সহপাঠীরা উল্লাস প্রকাশ করে। এ সময় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মমিনুল হক, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা পারভীন আক্তারসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মেয়েদের স্থান শ্বশুরবাড়ি নয়, বিদ্যালয়। বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। এ ঘটনা এরই উদাহরণ।


মন্তব্য