kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘বোনকে পাওয়া সম্ভব নয়, মৃত্যুর কারণ জানতে চাই’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘বোনকে পাওয়া সম্ভব নয়, মৃত্যুর কারণ জানতে চাই’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গতকাল অধ্যাপক আকতার জাহান স্মরণে ক্যাম্পাসে শোকযাত্রা বের করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘আমার বোন মারা গেছে, তাঁকে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর কারণ, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক যে চিত্র—সেটা সবার সামনে আসবে, এটাই আমি আশা করছি।

আমি আমার বোনের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। ’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আয়োজিত শোকসভায় এই দাবি জানান তাঁর ছোট ভাই কামরুল হাসান রতন। তিনি আকতারের মৃত্যুর পর আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে নগরীর মতিহার থানায় মামলা করেছিলেন। বাকরুদ্ধ এ মানুষটি বোনের মৃত্যুর ঘটনায় সবার সহযোগিতা চেয়ে আর কোনো কথা বলতে পারেননি। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টায় ওই বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে এ শোকসভার আয়োজন করা হয়।

শোকসভায় বলতে গিয়েও কথা বলতে পারছিলেন না বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিহুর রহমান। ডায়াসের সামনে শুধু অঝোরে কাঁদছিলেন। কিছুক্ষণ পর কিছুটা নিজেকে সামলে স্মরণ করলেন সবার প্রিয় আকতার জাহানকে।

আকতার জাহানের বড় বোন ইসরাত জাহান বলেন, ‘আমরা দুই বোন একসঙ্গে বড় হয়েছি। ’

‘কী পরিস্থিতি হয়—একটা মানুষ আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত যখন নেয়? বিচার অবশ্যই চাই। প্রত্যেকটি আত্মহত্যাই হত্যাকাণ্ড—বলেন আকতারের সহকর্মী সেলিম রেজা নিউটন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ্ আজম বলেন, ‘এ মৃত্যুতে যদি কোনো প্ররোচনাকারী থাকে, তার বিচার চাই। ’

এর আগে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল ‘আকতার জাহানের সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য’ শিরোনামে জীবনী পাঠ করেন। সভায় দুই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। শোকসভার আগে সকাল সাড়ে ১১টায় বিভাগের সামনে থেকে একটি শোকযাত্রা বের করা হয়। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কালোব্যাজ ধারণ করেন।


মন্তব্য