kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ডিএমপি কমিশনার

গুলশান হামলায় আকাশের সম্পৃক্ততা মেলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গুলশান হামলায় মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার সাবেক শিবির ক্যাডার ও অস্ত্র ব্যবসায়ী পেয়ার আহমেদ আকাশের কোনো সম্পৃক্ততা এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া। তবে তিনি বলেন, বিদেশি পত্রিকায় তাকে নিয়ে যেসব খবর বেরিয়েছে সেগুলো যাচাই করা হবে।

গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, আকাশ ফেনী জেলার একটি অস্ত্র মামলার আসামি। সে চার-পাঁচ বছর আগে মালয়েশিয়ায় যায়। তাকে গ্রেপ্তার করতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। এরই আওতায় তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘মালয়েশিয়ার পত্রিকায় কী এসেছে জানি না। তবে আমাদের তথ্য অনুযায়ী হলি আর্টিজানের ঘটনার সঙ্গে আকাশের কোনো যোগসূত্র এখনো মেলেনি। ’

গত শুক্রবার মালয়েশিয়ার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির ইংরেজি দৈনিক স্টারের অনলাইন সংস্করণে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৯ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাংয়ে একটি রেস্তোরাঁ চালাত। গুলশান হামলায় জড়িত একজনের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তার নাম আন্দালিব আহমেদ। মোনাশ ইউনিভার্সিটির সাবেক ছাত্র আন্দালিব ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়া থাকার পর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চলে যায় বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফেনী জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত দশ ট্রাক অস্ত্র থেকে খোয়া যাওয়া একে-৪৭ রাইফেল বিক্রি করার সময় ২০০৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ফেনীতে আকাশসহ তিনজন র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়। পরে জামিন পেয়ে সে মালয়েশিয়া চলে যায়।

মায়ের দাবি : পেয়ার আহমেদ আকাশ ‘ষড়যন্ত্রের’ শিকার বলে দাবি করেছেন তার মা রাজিয়া বেগম। গতকাল দুপুরে দাগনভূঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামের বাড়িতে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, আকাশ ও তার তিনজন ব্যবসায়িক অংশীদার মালয়েশিয়ায় হোটেল চালাত। এ নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তারাই ষড়যন্ত্র করে আকাশকে ফাঁসিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

দাগনভূঞার পূর্বচন্দ্রপুরের ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রায়হান বলেন, একসময় আকাশ শিবিরের রাজনীতি করত। চট্টগ্রাম কলেজে পড়াকালে শিবিরের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয় সে। একসময় অস্ত্র ব্যবসাও শুরু করে। দাগনভূঞা থানার ওসি মো. আসলাম উদ্দিন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, আকাশকে সুনির্দিষ্ট অস্ত্র মামলায় (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ৯৭/০৫) গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য