kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রমনা পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন ও ঐতিহ্য রক্ষার কর্মসূচি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রমনা পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন ও  ঐতিহ্য রক্ষার কর্মসূচি শুরু

রমনা পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন, ঐতিহ্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। ১০টি মিলেশিয়া গাছ লাগিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজ শুরু করা হয়।

রমনাকে ঘিরে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কথাও ভাবা হচ্ছে।

গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় এ উপলক্ষে রমনা পার্কের রেস্তোরাঁয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ ও পার্ক ব্যবহারকারীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা হয়। সভার পরে গাছগুলো লাগানো হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, এ কর্মসূচির আওতায় জরিপ করা হবে, অপ্রয়োজনীয় গাছ অপসারণ করে পরিকল্পনা মোতাবেক গাছ লাগানো হবে, উন্মুক্ত স্থান নির্ধারণ করা হবে, প্রতিটি গাছের ইতিহাসসহ পরিচিতি-ফলক লাগানো হবে। অপ্রয়োজনীয় স্থাপনাও অপসারণ করা হবে।

পার্কের ময়লা-আবর্জনা সরানোর জন্য আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করা হবে বলে জানান তিনি। এর লেকে শাপলা ও বেশকিছু বিরল প্রজাতির ফুল ফোটানোর ব্যবস্থাও করা হবে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তসচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার সভায় সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান মুন্সি, অতিরিক্ত সচিব আকতার হোসেন, প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, উপসচিব ফাহিমুল ইসলাম, স্থপতি মোসতাক কাদরী প্রমুখ। স্থপতি তুগলক আজাদ রমনা পার্কের ওপর একটি প্রতিবেদন পেশ করেন। পার্কে প্রাতর্ভ্রমণকারীদের সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম, রমনা পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনে সবাই এগিয়ে আসুক। কারণ কাজ শুরু করলে বা গাছ কাটা পড়লে ভুল ব্যাখ্যা, সমালোচনা হতে পারে। এখন সবাই এগিয়ে এসেছে। ফলে এর সংস্কারকাজ করা অনেক সহজ হবে। ইতিমধ্যে ছায়ানটের বর্ষবরণ ছাড়া আর কোনো অনুষ্ঠানের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন ও ঐতিহ্য রক্ষায় সম্ভাব্য সব কিছু করতে আমরা পরিকল্পনা করেছি। ’

মন্ত্রী বলেন, রমনা পার্ক নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। সেখানে পার্ক রক্ষার সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

পূর্তসচিব শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, ‘রমনা পার্ক ঘিরে একটি ঐহিহ্য-বলয় তৈরি হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় গাছ অপসারণ করে বিরল প্রজাতির গাছ রোপণ করে আমরা একটি পরিকল্পিত পার্ক গড়ে তুলতে চাই। আমাদের পরিকল্পনা শুধু রমনা পার্ককে নিয়ে নয়; সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ পুরো এলাকাকে নান্দনিক করে তোলা হবে। ’

অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন বলেন, রমনা পার্ককে রক্ষা করতে হলে যারা ব্যবহার করে তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পার্কের পাখি ও গাছের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে হবে। পাখির জন্য এলাকা চিহ্নিত করতে হবে।

স্থপতি তুগলক আজাদ জানান, রমনার বটমূলে অনুষ্ঠান বন্ধ করা, মেহগনিসহ পার্কের জন্য উপকারী নয় এমন গাছ অপসারণ করা, লেকে ফুল ফোটানোর ব্যবস্থা করা, বটগাছ রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া, পাখি বাড়ানোর জন্য দুটি স্থান নির্ধারণ করা, গাছের পরিচিতিমূলক নামফলক লাগানো, শতবর্ষী গাছ রক্ষা করা, পার্কের অপ্রয়োজনীয় স্থাপনা অপসারণ করা, ব্যায়ামাগার অপসারণ করা, একটি বর্ণিল প্রবেশ পথ তৈরি করা ও একটি নার্সারি গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে।


মন্তব্য