kalerkantho


উত্তরের চার জেলার দুঃখ তিস্তা

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির অভাব আর বর্ষায় উপচে পড়া বন্যা এবং ভাঙনের কারণে নদীটি উত্তরের চার জেলার মানুষের জন্য দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে আজ ২৫ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে বিশ্ব নদী দিবস। এ উপলক্ষে নদী রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন রিভারাইন পিপল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে আছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, নদী নিয়ে গান ও আলোচনা।

রিভারাইন পিপলের রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিস্তা হচ্ছে উত্তরের জীবনরেখা। নির্মমভাবে ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার করার কারণে সেই জীবন রেখার আজ মরণ-দশায় পরিণত হয়েছে। তিস্তাকে বাঁচানো না গেলে উত্তরাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হবে। ’ তিনি জানান, এবারের নদী দিবসের আয়োজনে তিস্তাকে জাতীয় নদী ঘোষণার দাবি জানানো হবে।

উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় তিস্তার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে একের পর এক জনপদ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রংপুরের গঙ্গাচড়া। এই উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে সাতটির ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী।

প্রতিবছর নদী ভাঙনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় গজঘণ্টা ইউনিয়নের ছালাপাক, জয়দেব, রমাকান্ত, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, জয়রামওঝা, চর ইশোরকোল, চর ইচলী, গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের ধামুর, গান্নারপাড়, সিংগিমারী, কোলকোন্দ ইউনিয়নের মটুকপুর, চিলাখাল, বিনবিনা এবং নোহালী ইউনিয়নের বাগডোহরা ও চর নোহালী এলাকার মানুষজন। এসব এলাকার ১০ হাজারের বেশি পরিবার মর্ণেয়া থেকে নোহালী পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার বাঁধে আশ্রয় নিয়ে আছে। এসব মানুষের পানীয় জলের তীব্র সংকটের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের অভাব প্রকট।

কোলকোন্দ ইউনিয়নের সিংগিমারী মঠের পাড় এলাকার আনোয়ারুল হক ও ওছমান আলী জানালেন, একসময় তাঁদের সব কিছু ছিল। গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ কোনো কিছুরই অভাব ছিল না তাঁদের। সর্বনাশী তিস্তা তাঁদের সুখের সংসার ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে।

গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের গান্নারপাড় এলাকার শমসের আলী, শহর বানু, বকিয়ত উল্যাহ বলেন, বন্যার সময় গাড়িতে করে সবাই তাঁদের দেখতে আসে। কেউ তাঁদের অভাবের জ্বালা বোঝে না।

এলাকাবাসী দাবি করেন, প্রায় ২০ বছর ধরে সরকার তিস্তার মূল বাঁধ রক্ষায় গাইড ও উপ-বাঁধ নির্মাণ করে প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ করেছে। কিন্তু গত কয়েক বছরের বন্যায় কয়েকটি এলাকায় গাইড বাঁধ ভেঙে গেছে। ২০০১ সালে নির্মিত গান্নারপাড় এলাকায় এক হাজার ৫০০ ফুট উপবাঁধ বিলিন হয়ে গেছে। এতে পাকা সড়ক ভেঙে গঙ্গাচড়া-মহিপুর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।


মন্তব্য