kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সেমিনারে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

রামপালে কাজ বন্ধ হবে কি না বলার সময় আসেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাগেরহাটের রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ নিয়ে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর উদ্বেগের বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, তাদের উদ্বেগের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর জবাব দেবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সরকার রামপালে বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণকাজ বন্ধ করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি।

নসরুল হামিদ বলেন, সরকার পরিবেশের ব্যাপারে আগের চেয়ে বেশি সচেতন। সে কারণে নতুন কোনো বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের আগেই পরিবেশের প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

এর আগে সেমিনারে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার হাবের ওপর পুঞ্জীভূত পরিবেশগত প্রভাব-সংক্রান্ত সমীক্ষার তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

সীমক্ষাটি ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় পাওয়ার সেলের নির্দেশনায় করা হয়েছে। সমীক্ষায় বিদ্যুেকন্দ্র ছাড়াও সিমেন্ট, পেপার, রিরোলিং, টেক্সটাইল, পোশাক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কেমিক্যাল, জাহাজ নির্মাণ, ইটভাটা ইত্যাদি কারখানা রয়েছে। ভবিষ্যতে সিদ্ধিরগঞ্জে আরো বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন করা হলে তা বায়ু, পানি, ভূমি, আর্থসামাজিক অবস্থা ও স্থানীয়দের স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে এ সমীক্ষা করা হয়। এতে ভূমি পরিকল্পনা, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচি, আঞ্চলিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি ও দারিদ্র্য নিরূপণ এবং বস্তি উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে কাজ করার সুপারিশ করা হয়।

সেমিনারে নসরুল হামিদ বলেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। উন্নয়নের উপাদান ও উপকরণগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক পরিবেশ-পরিস্থিতির সাযুজ্য রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে। চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতা থাকবেই। এসব অতিক্রম করেই বাংলাদেশকে সামনে এগোতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন ১০ হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। আগামী দিনে তা ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। এ জন্য অনেকগুলো পাওয়ার হাব তৈরি হবে। যেসব স্থানে পাওয়ার হাব তৈরি হবে, সেখানে পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে সে বিষয়ে আগেই সমীক্ষা করা হবে।

 

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. আহমদ কায়কাউস, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন ও বিশ্বব্যাংকের পরিচালক জুলিয়া বাকনেল।


মন্তব্য