kalerkantho


পানিসম্পদমন্ত্রী বললেন

বাংলাদেশ থেকে পলি নিতে প্রস্তাব বিভিন্ন দেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশ থেকে পলি নিতে প্রস্তাব বিভিন্ন দেশের

বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে গতকাল শহীদ মিনার থেকে শোভাযাত্রা বের করে কয়েকটি সংগঠন। ছবি : কালের কণ্ঠ

শুকিয়ে যাচ্ছে দেশের অনেক নদনদী। নদী বাঁচাতে খননে খননে দিশাহারা সরকার। কোটি কোটি টাকা খরচ করেও নদীর তলদেশ ভরাট হওয়া ঠেকানো যাচ্ছে না। খননকাজ আরো জোরালো করতে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো খননযন্ত্র সংগ্রহে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আবার নদীর তলদেশ থেকে তোলা পলিমাটি রাখারও জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সেই পলিমাটিই এবার খুলে দিচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। বাংলাদেশের উর্বর পলিমাটি নিতে প্রস্তাব দিয়েছে কয়েকটি দেশ। সরকারও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ প্রস্তুতি শুরু করেছে। পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানান এ তথ্য।

রাজধানীর ওয়ারপো মিলনায়তনে বন্যা ও নদীভাঙন নিয়ে গতকাল শনিবার আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। ইনস্টিটিউড অব ওয়াটার মডেলিং (আইডাব্লিউএম) সেমিনারটির আয়োজন করে।

কোন কোন দেশ পলি নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তা প্রকাশ না করলেও মন্ত্রী জানান, পলি রপ্তানির বিষয়ে কয়েকটি দেশের সঙ্গে কথা চলছে। তারা এখানে এসে নদী খনন করে পলি নিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে একদিকে নদী খননের কাজও হবে, আবার বিদেশি অর্থও আসবে।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বন্যার সময় স্রোতের সঙ্গে এসে প্রচুর পলিমাটি জমে। এতে দ্রুত নদনদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যায়। আর নদীর আশপাশের তীরভূমির উচ্চতাও বাড়ছে। বন্যা বা জোয়ারের পানির উচ্চতা অনেক ক্ষেত্রেই বিদ্যমান বাঁধগুলো ছুঁয়ে যায়। তাই এখন থেকে সব বাঁধ উঁচু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘বন্যার সময় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরের এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। এসব স্থানে থাকা জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লোকজনও অবৈধ নানা প্রক্রিয়ায় বাঁধের বাইরে মুক্ত তীরে নানা স্থাপনা তৈরি করে বসবাস বা ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করে। এ প্রবণতা রোধ করতে না পারলে নদী বাঁচানো যাবে না। আর অনেকেই বন্যার জন্য ফারাক্কা বাঁধকে দায়ী করে থাকেন। কিন্তু আমি বলছি, এটা বলা হয় রাজনীতির উদ্দেশ্যে বা না জেনে। ফারাক্কার কারণে আমাদের দেশে পরিবেশ-প্রতিবেশের বিভিন্ন ক্ষতি হলেও এ বাঁধের সঙ্গে বন্যার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ’

সেমিনারে অন্যদের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. জাফর আহম্মেদ খান, বিআইডাব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ওয়ারপোর মহাপরিচালক মো. সারাফত হোসেন খান, বুয়েটের অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন আইডাব্লিউএমের নির্বাহী পরিচালক ড. এম মনোয়ার হোসেন। বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডাব্লিউএমের পরিচালক মীর মোস্তফা কামাল ও  মো. সোহেল মাসুদ।


মন্তব্য