kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পিপিআরসির সম্মেলনে বক্তারা

সরকারের নীতি ও গবেষণায় গুরুত্ব পায় না নগর-দারিদ্র্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কাজের সন্ধানে প্রতিনিয়ত গ্রাম থেকে শহরে আসছে মানুষ। কিন্তু সে অনুপাতে বাড়ছে না তাদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা।

আর উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে এসব মানুষ। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন নীতি ও গবেষণায় বিষয়টি অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে। বেসরকারি সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক সম্মেলনের প্রথম দিনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

পিপিআরসি ও বিবিএসের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, নগর এলাকায় বসবাস করা ৩৪ শতাংশ মানুষই গরিব। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এম মান্নান বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু মধ্যম আয়ের দেশে যাওয়ার পথে অনেক প্রতিক্রিয়াশীল মানুষ তাতে বাধা দিচ্ছে। তাই যারা আমাদের উন্নতির পথে বাধা দিচ্ছে, প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, দারিদ্র্য দূরীকরণের চেয়ে আমাদের এখন বেশি জরুরি তাদের প্রতিরোধ করা, প্রতিহত করা। অশান্তি সৃষ্টিকারীদের সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সম্মেলনের সমন্বয়ক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান তাঁর ‘বাংলাদেশ : দ্য আরবান স্পেকট্রাম, মেট্রোপলিটন টু মফস্বল’ শীর্ষক উপস্থাপনায় বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক দারিদ্র্যের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দারিদ্র্যের কারণে শহরের শিশুরা স্কুলে যাওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে। এ ছাড়া কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে যারা রিকশা চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে, তারা খুবই নিম্ন জীবন যাপন করছে। এসব মানুষ বিভিন্ন বস্তিতে বসবাস করছে। এসব বস্তির জমি নিয়ে এক ধরনের রাজনৈতিক অর্থনীতি কাজ করে, যা নগর-দরিদ্রদের জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দেয়।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, গ্রামাঞ্চলে কাজের সুযোগ কমে গেলে মানুষ শহরমুখী হয়। কিন্তু প্রতিনিয়ত ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলানোর ক্ষমতা শহরের নেই। আর শহরের ব্যাপ্তি বাড়বে, এটাও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার ওপর চাপ কমাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এগুলো বাস্তবায়িত হলে ওই সব স্থানে কাজের সুযোগ বাড়বে। ফলে সেখান থেকে মানুষ আর ঢাকা বা অন্য বড় শহরে যাবে না।


মন্তব্য